বৃহস্পতিবার সারা দিনব্যাপী একটানা মুষলধারে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। যা এখনও চলমান রয়েছে। আগামী আরো কয়েকদিন এভাবে বৃষ্টি হতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
ফরিদপুরের আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই ফরিদপুরে অবিরাম বৃষ্টিপাত হয়েছে। সর্বশেষ বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১২৯ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আগামী আরও তিন থেকে চারদিন ধরে কমবেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সারা বছরের মধ্যে আজকের বৃষ্টিপাতের হার সর্বোচ্চ।
.png)
শহরের গোয়াল চামটের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বকু বলেন, এমন বৃষ্টি গত কয়েক বছর দেখিনি। এক নাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। মনে হচ্ছে সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। আর পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, সারাদিন ভারী বর্ষণে শহরের মুজিব সড়ক, থানা রোড, কোর্ট চত্বরসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকার রাস্তাঘাটে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। জনজীবনে নেমে আসে স্থবিরতা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যান-রিকশাচালক, হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ। সকাল থেকেই জেলা শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে জরুরি কোনো কাজ ছাড়া বাসার বাইরে বের হননি সাধারণ মানুষ।
জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া অনেকে বৃষ্টিতে আটকা পড়ে থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কয়েকটি রিকশা বা অটোযান চলাচল করলেও ভাড়া ছিলো কয়েকগুণ। অফিস-আদালতে এ কারণে উপস্থিতি ছিলো কম।
বৃষ্টির পানির প্রবল বেগে কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ির বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েন। শহীদ নামে পূর্ব খাবাসপুরের একজন রিকশাওয়ালা বলেন, তার শিশুটির ঠান্ডাজ্বর। ঘরের মধ্যে পানি পড়ে চাল বেয়ে। এরইমধ্যে থাকতে হচ্ছে। এভাবে থাকলে বাচ্চাটি অসুস্থ হয়ে পড়বে।
শহরতলীর সাদিপুরের রমজান একজন দিনমজুর বলেন, সারাদিন কাজে বের হতে পারিনি। ঘরের মানুষরা একবেলা মুড়ি আর শুকনো রুটি খেয়ে দিন পার করেছি।