ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বেঁচে আছেন পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দেওয়া সেই রিকশাচালক 

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ১ অক্টোবর ২০২৩
বেঁচে আছেন পদ্মা সেতু থেকে ঝাঁপ দেওয়া সেই রিকশাচালক 
শরিফুল ইসলাম

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মা সেতুতে উঠে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া সেই অটোচালক শরিফুল বেঁচে আছেন। তিনমাস ১০ দিন পর রোববার তিনি নিজেই পদ্মা সেতু উত্তর থানায় উপস্থিত হয়েছেন। শরিফুল বাগেরহাটের মোল্লাহাট গ্রামের জিন্নাত আলীর ছেলে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি আলমগীর হোসেন। 

শরিফুল জানান, তার বাড়ি বাগেরহাটে। তবে তিনি ঢাকার হাজারীবাগে থেকে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। ঘটনার দিন রাতে পারিবারিক কলহের জেরে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। তার উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা থেকে বাগেরহাটের গ্রামে চলে যাবে। এরপর মুন্সিগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত হয়ে তিনি রিকশা চালিয়ে পদ্মা সেতুতে ওঠেন। একপর্যায়ে একটি যানে ধাক্কা লাগলে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে ধাওয়া দেয়। এ সময় ভয়ে রিকশা রেখেই সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। 

Advertisement

তিনি বলেন, রাতভর নদীতে ভেঁসেছিলেন। নদীতে অনেক ঢেউ ছিল আমি কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাইনি। নিজের মতো করে সাঁতরাচ্ছিলাম। সকালে মাওয়া প্রান্ত থেকে দূরের একটি এলাকায় উঠি। পরে বাসে উঠে বাড়িতে গেলেও পরিবারের কেউ আমার এই ঘটনা বিশ্বাস করেনি। সবাই বলছিল অটোরিকশাটি আমি চুরি করে বিক্রি করে দিয়েছি।  

কিস্তির টাকা দিয়ে অটোরিকশাটি ক্রয় করেছিলাম, পরবর্তীতে জানতে পারি এটি থানায় রয়েছে। এজন্য পদ্মা সেতু উত্তর থানায় আসি। বাড়ির লোকজন আমাকে মনে করছে, যে আমি এটি বিক্রি করে টাকা খেয়ে ফেলেছি। 

শরিফুল ইসলামের শ্বশুর মোহাম্মদ দাউদ মোল্লাহ জানান, ঘটনাটি আমাদের কাছে বলার পর আমরা বিশ্বাস করতে পারিনি, কারণ পদ্মা নদীতে পড়ে কেউ জীবিত ফিরতে পারে না। শরিফুলের মানসিকভাবে কিছু সমস্যা ছিল। এই ঘটনা জানানোর অনেকদিন পর্যন্ত সে হাসপাতালে ভর্তি ছিল। এখন থানায় এসে দেখলাম তারই অটোরিকশাটি। এখন বিশ্বাস হচ্ছে। 

পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, সকালে থানা এলাকায় এসে তিনি দাবি করেন অটোরিকশাটি তার। তার পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। বিস্তারিত পরে বলব।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১৮ জুন রাত ২টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত হয়ে উল্টোপথে সেতুতে উঠে পড়েন অটোচালক শরীফ। বিষয়টি টের পেয়ে সেতুর নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ধাওয়া করেন। পরে সেতুর ২১ নম্বর পিলারের কাছ এসে অটোরিকশা রেখে চালক পদ্মায় ঝাঁপ দেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!