এই পদ্ম বিলে যেন প্রকৃতি সেজেছে এক অপরূপ সৌন্দর্যে। তিতাস ব্রিজ আর পদ্ম বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণপিপাসু লোকজন এখানে ভিড় করছেন। তবে পদ্ম বিল ও তিতাস ব্রিজ এলাকায় অনেকেই নৌকা দিয়ে ঘুরাঘুরি করে আনন্দ উপভোগ করছেন। এতে স্থানীয় অনেক লোকজন এক বেলা নৌকা চালিয়ে করছেন বাড়তি আয়।

.png)
স্থানীয় নৌকার মাঝিরা বেলা ৩টার পর থেকেই তিতাস ব্রিজ এলাকা, খড়মপুর মাজার সংলগ্ন স্থান ও ধর্মনগর গ্রামের নৌকা নিয়ে বসে থাকেন। আর ভ্রমণপিপাসুরা এখানে এসে নৌকা ভাড়া করে ওইসব জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন। সকাল ও বিকেল আড্ডা, নৌকা চড়া ও আনন্দ আর হৈচৈ করেন তরুণ-তরুণীরা। ভ্রমণপিপাসুরা যেন মাতিয়ে তুলেন পুরো এলাকা। সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের বিলজুড়ে পদ্ম ফুলের সঙ্গে ছবি তোলে, ঘুরে বেড়ানো যেন নৌকা ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যম নেই। এক একজন নৌকার মাঝি দৈনিক সাতশ থেকে এক হাজার টাকার ওপর আয় করছেন।
সরেজমিনে ধর্মনগর ও তিতাস ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নয়নাভিরাম প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি তরুণ যুবক ও শিক্ষার্থীসহ অনেক লোকজন এসেছেন। এরমধ্যে অনেকেই নৌকা দিয়ে মনের আনন্দে ঘুরে প্রকৃতির সৌন্দর্যকে অবলোকন করছেন। এক একটি নৌকায় ৫-৭ জন ভ্রমণকারী উঠছেন। প্রতি ঘণ্টায় দুইশ থেকে তিনশ টাকা দিচ্ছেন নৌকার মাঝি।
নৌকার মাঝি জসিম মিয়া জানান, এমনিতে তিনি কৃষি কাজ করেন। কাজের ফাঁকে বিকেলে এখানে নৌকা চালান। বন্ধের দিন লোকজন বেশি হয়। এক বেলা নৌকা চালিয়ে ছয়শ থেকে আটশ টাকা আয় হয় বলে জানান তিনি।
সুমন মিয়া জানান, তিনি অটোরিকশা চালক। সকাল থেকে দুপুর পযর্ন্ত অটোরিকশা চালান। এরপর বিকেলে পদ্ম বিলে নৌকা চালান। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে অসংখ্য লোকজন পদ্ম বিলে আসছেন। বেশি ভাগ মানুষ নৌকা দিয়ে এই বিলে ঘুরেন। এক বেলা নৌকা চালিয়ে সাতশ থেকে আটশ টাকার ওপর আয় করছেন তিনি।
নৌকা চালক মো. আবু মিয়া বলেন, বর্ষার পানি আসার আগে আমি একটি হোটেলে কাজ করতাম। সেখানে সারা দিন কাজ করে দৈনিক ৩৫০ টাকা মজুরি পাওয়া যেতো। গত ২ মাস ধরে তিতাস ব্রিজ ও খড়মপুর মাজার এলাকা ঘাটে নৌকা চালাচ্ছেন। এখন আগের থেকে ভালো টাকা আয় করছে বলে জানায়।

নেমতাবাদ এলাকা থেকে আসা রিয়াজ উদ্দিন জানান, ১৫ দিন আগে ছুটিতে দেশে এসেছেন তিনি। এরপর কোথাও বের হয়নি। স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে কালিবাড়ি পদ্ম বিলে বেড়াতে এসেছেন তিনি। একটি নৌকািএক ঘণ্টার জন্য তিনশ টাকায় ভাড়া নেন তিনি। পদ্ম ফুল দেখে খুব ভালো লাগছে বলে জানান তিনি।
ইমামবাড়ি এলাকার মো. মিন্টু মিয়া বলেন, বন্ধুদের নিয়ে এখানে পদ্ম বিলে এসেছি। মুক্ত বাতাস আর মনোমুগ্ধকর পরিবেশে নৌকা চড়া সত্যিই খুবই ভালো লেগেছে।
আখাউড়া উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তিতাস ব্রিজ ও পদ্ম বিল দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা আসছেন। বিনোদন প্রিয় লোকদের কাছে এই স্থানটি খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্ষা মৌসুমে এ বিলে জন্ম নেয়া পদ্মফুল একদিকে যেমন বিলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও মুগ্ধ করছে।