ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

হারিয়ে যাচ্ছে শিকারি পাখি ‘মাছরাঙা’

হাসান পিন্টু, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশিত: ১৯:২০, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
হারিয়ে যাচ্ছে শিকারি পাখি ‘মাছরাঙা’
মাছরাঙা পাখি- ছবি সংগৃহীত

মাছরাঙা পাখি। এক সময় বিল-ঝিল, নদ-নদী, খাল, জলাশয় ও পুকুর পাড়ে দেখা যেত এই পাখি। ঝোপ-ঝাড় আর বাঁশের খুঁটিতে ওত পেতে থেকে অপলক দৃষ্টিতে শিকারের অপেক্ষায় থাকতো কৌশলী মাছরাঙা। এর প্রধান শিকার হচ্ছে মাছ। স্বচ্ছ জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে সুচালো ঠোঁটের মাধ্যমে ধরে আনে নিজের শিকারকে। এরপর গাছের ডালে বসে শিকার করা মাছকে আছড়ে গিলে ফেলে মাছরাঙা পাখি।

ভোলার লালমোহনে কয়েক বছর ধরে আর মাছরাঙার মাছ শিকারের দৃশ্য সচরাচর দেখা যাচ্ছে না। নানা কারণে আশঙ্কাজনক হারে কমে গিয়েছে দৃষ্টিনন্দন এ পাখির সংখ্যা।

জানা যায়, মাছরাঙাকে ইংরেজিতে কিংফিশার বলা হয়। এর শারীরিক আকৃতি খাটো, লম্বা আর সুচালো ঠোঁট। মাছরাঙা সাধারণত পুকুর বা জলাশয়ের পাড়ে গর্ত তৈরি করে বসবাস করে। এসব মাছ রাঙার রয়েছে কয়েকটি জাত। এর মধ্যে- নীল মাছরাঙা, সাদা মাছরাঙা, ছিট পারকা, লাল মাছরাঙা, সবুজ, বাদামি, কালো ও বুনো মাছরাঙা রয়েছে। মাছ তাদের প্রধান খাদ্য। তবে এরা মাঝেমধ্যে পোকা-মাকড়ও খেয়ে থাকে। শরৎকাল হচ্ছে মাছরাঙার প্রজনন মৌসুম। এসময় মা পাখিটি পাঁচ থেকে সাতটি ডিম দিয়ে থাকে।

Advertisement

লালমোহনের বৃদ্ধ মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, এক সময় পুকুরে গোসল করতে গেলে হরহামেশাই দেখা যেত মাছরাঙা পাখির। আবার রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়ও দেখা মিলতো পাখিটির। মাঝে মধ্যে মাছরাঙা পাখির মাছ শিকারের দৃশ্য খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতাম। তবে এখন আর তেমন দেখা যায় না মাছরাঙা পাখিটিকে।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. বিল্লাল উদ্দিন জানান, মাছরাঙার অনেক জাত রয়েছে। এ পাখিটি রূপে-গুণে অনন্য। মাছরাঙা পাখি প্রকৃতিপ্রেমীও। এক সময় গ্রামাঞ্চলে পাখিটির অবাধ বিচরণ ছিল, যা ছিল মনোমুগ্ধকর।

তিনি জানান, তবে বর্তমান সময়ে মাছরাঙা পাখি আর তেমন দেখা যায় না। এর পিছনের মূল কারণ; কীটনাশকের অতিরিক্ত ও অবাধ ব্যবহার, পরিবেশ দূষণ, নির্বিচারে গাছ কাটা, পুকুরের সংখ্যা কমে যাওয়া, খাদ্য সংকট। এর ফলে হারিয়ে যাচ্ছে মাছরাঙা পাখিটি।

এই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরো জানান, আমাদের আশেপাশে থাকা প্রতিটি পশু-পাখি রক্ষায় জনসচেতনতার বিকল্প নেই। এ জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষার জন্য হলেও ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে এসব পশু-পাখি রক্ষার জন্য। তা না হলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হারিয়ে যেতে পারে পরিবেশের সৌন্দর্য বহনকারী অনেক রকমের পশু-পাখি। এরইমধ্যে হারিয়েও গেছে অনেক ধরনের পশু-পাখি।

 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!