বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাসান আলীর বড় ভাই মাহবুব আলী। তিনি বলেন, যে বাড়ির সম্পত্তির জন্য হাসানের জীবন গেল, সেই বাড়িতে তাকে দাফন করা হয়েছে। যাতে কেউ আর এ সম্পত্তি ভোগ করতে না পারেন।
হাসান আলী বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী গ্রামের সাহাব মিয়ার ছেলে। বৃহস্পতিবার নগরের পতেঙ্গা থানার ১২ নম্বর ঘাট এলাকায় সড়কের পাশে পড়ে থাকা একটি লাগেজ থেকে তার শরীরের আটটি খণ্ড উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি খণ্ড ছিল টেপ দিয়ে মোড়ানো। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ। এরপর ঘটনা তদন্তে কাজ শুরু করে পিবিআই।
.png)
পরে শনিবার সকালে আকমল আলী রোড এলাকায় একটি বস্তা থেকে শরীরের আরো কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় শনাক্তের পর শনিবার হাসানের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম ও বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পিবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান- দীর্ঘ ২৭ বছর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না হাসানের। এ সময় তিনি কোথায় ছিলেন তাও জানতেন না পরিবারের সদস্যরা। বছরখানেক আগে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন হাসান। গ্রামের বাড়ি বাঁশখালীতে তার নামে কিছু পৈতৃক সম্পত্তি ছিল। যেগুলো নিজেদের নামে লিখে নিতে হাসানকে চাপ দিতে থাকেন তার স্ত্রী-সন্তানরা। কিন্তু এ বিষয়ে রাজি ছিলেন না হাসান। এ নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার রাতে আকমল আলী রোডের পকেট গেট এলাকায় ছোট ছেলের বাসায় ডেকে নিয়ে হাসানকে হত্যা করেন স্ত্রী-সন্তানরা। এরপর মরদেহ টুকরো টুকরো করে লাগেজ ও বস্তায় ভরে ফেলে দেন।
পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন রাতে চিকিৎসার নামে আকমল আলী সড়কের পকেট গেট এলাকায় ছোট ছেলের বাসায় যান হাসানের স্ত্রী। সেদিন বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানও সেই বাসায় যান। পরবর্তীতে হাসানকেও ডেকে নেন তারা। রাতে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে স্ত্রী, দুই ছেলে ও ছোট ছেলের স্ত্রী মিলে পরিকল্পিতভাবে হাসানকে হত্যা করেন। হত্যার পর ঠাণ্ডা মাথায় লাশ টুকরো টুকরো করেন তারা।
এরপর লাগেজে ভরে আটটি টুকরো ১২ নম্বর ঘাট এলাকায় খালে নিয়ে ফেলে দেন। মাথা-বুকসহ শরীরের আরো কিছু অংশ বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলেন। এ কাজটি করেন ছোট ছেলে সফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর। এ ঘটনায় হাসানের স্ত্রী ও বড় ছেলে গ্রেফতার হলেও পলাতক রয়েছেন ছোট ছেলে এবং তার স্ত্রী।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক ইলিয়াস খান বলেন, হাসান আলী হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তার স্ত্রী ও বড় ছেলে। আদালতে তাদের এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এছাড়া পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করলে শুনানি শেষে সেটিও মঞ্জুর করেন আদালত।