এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য প্রতিবছরে দেখা মেলে ঝালকাঠির বিভিন্ন এলাকায়। এবারো অঞ্চলটির মাঠ আমন ধানে ভরে গেছে। অন্যদিকে জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ বছর ঐ জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আমনের আবাদ হয়েছে।
সরেজমিন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, আমন ধানের ক্ষেত প্রকৃতির খেয়ালে গাঢ় সবুজ রঙ ধারণ করেছে। সবুজে ঘেরা রোপা আমনের মাঠে কৃষক ব্যস্ত সময় পার করছেন। ধান গাছ ভালো রাখতে ও ধানের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকরা ক্ষেতের ঘাস পরিষ্কার, সার ও বালাইনাশক ওষুধ প্রয়োগ ও পার্চিংসহ সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করছেন। মাঝে মধ্যে হচ্ছে বৃষ্টি। আমন আবাদের জন্য আবহাওয়া রয়েছে অনুকূলে। তাই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন কৃষকরা।
.png)
কৃষক জহির সরদার বলেন, ‘এবার তীব্র খরার কারণে দেরিতে রোপা আমন লাগাইছি। কিন্তু আমন আবাদের জন্য আবহাওয়া ভালো থাহায় ফসল এহন অনেক ভালো হইছে’।
কৃষক ফাইজ উদ্দিন বলেন, ‘কয়েকদিনেই আমরার ফসলের মাঠ অনেক সুন্দর হইছে। চারদিকে শুধু সবুজ আর সবুজ দেহা যায়’।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসিবুন জানান, এ জেলায় এ বছর আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমি। আমনের আবাদ অর্জন হয়েছে ৪৭ হাজার ২৫৫হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৫৫ হেক্টর জমিতে বাড়তি আমনের চাষাবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৬৪৮ মেট্রিক টন।
তিনি আরো জানান, এ জেলায় প্রধানত স্থানীয় জাতের সাদা মোটা ১০ হাজার ১৩৪ হেক্টর, লাল মোটা তিন হাজার ৫৯২ হেক্টর, মৌলতা তিন হাজার ৮০৯ হেক্টর, দুধ কলম দুই হাজার ১৯৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এছাড়াই উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের বিআর ১১, বিআর ২৩, ব্রি ৪১, ব্রি ৪৪, ব্রি ৫২, ব্রি ৫৭, বি ৭৭ জাতের আবাদ হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মনিরুল ইসলাম জানান, ঝালকাঠি জেলায় বীজ মাজরা পোকায় আক্রমণ করলেও কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তা পানিতে ধুয়ে নেমে গেছে। এ বছর আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।