কিন্তু এ বিষয়ে রাজি ছিলেন না হাসান। এ নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরের ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের পকেট গেট এলাকায় ছোট ছেলের বাসায় ডেকে নিয়ে হাসানকে হত্যা করেন স্ত্রী-সন্তানরা। এরপর মরদেহ টুকরো টুকরো করে লাগেজ ও বস্তায় ভরে ফেলে দেন।
হাসান চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী গ্রামের সাহাব মিয়ার ছেলে। তার খণ্ডবিখণ্ড মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পর স্ত্রী ও বড় ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য।
এর আগে, বৃহস্পতিবার নগরের পতেঙ্গা থানার ১২ নম্বর ঘাট এলাকায় সড়কের পাশে পড়ে থাকা একটি লাগেজ থেকে হাসানের শরীরের আটটি খণ্ড উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি খণ্ড ছিল টেপ দিয়ে মোড়ানো। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করে পুলিশ। এরপর ঘটনা তদন্তে কাজ শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে আজ শনিবার সকালে আকমল আলী রোড এলাকায় একটি বস্তা থেকে হাসানের শরীরের অবশিষ্ট অংশও উদ্ধার করা হয়।
.png)
এ ঘটনায় তার স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম ও বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে আটক করা হলেও পলাতক রয়েছেন ছোট ছেলে সফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর এবং তার স্ত্রী আনারকলি।
পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন রাতে চিকিৎসার নামে আকমল আলী সড়কের পকেট গেট এলাকায় ছোট ছেলের বাসায় যান হাসানের স্ত্রী। সেদিন বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানও সেই বাসায় যান। পরবর্তীতে হাসানকেও ডেকে নেন তারা। রাতে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে স্ত্রী, দুই ছেলে ও ছোট ছেলের স্ত্রী মিলে পরিকল্পিতভাবে হাসানকে হত্যা করেন। হত্যার পর ঠাণ্ডা মাথায় লাশ টুকরো টুকরো করেন তারা। এরপর লাগেজে ভরে টুকরোগুলো ১২ নম্বর ঘাট এলাকায় খালে নিয়ে ফেলে দেন। মাথা-বুকসহ শরীরের আরো কিছু অংশ বিভিন্নস্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলেন। এ কাজটি করেন ছোট ছেলে সফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা বলেন, মরদেহের আঙুলের ছাপ নিয়ে ঐ ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এরপর স্ত্রী ও সন্তানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান- দীর্ঘ ২৭ বছর পরিবার থেকে আলাদা ছিলেন হাসান। সম্প্রতি স্ত্রী-সন্তানদের কাছে ফিরে আসেন। তবে এর আগে হাসানকে মৃত উল্লেখ করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন বড় ছেলে মোস্তাফিজুর। হাসান ফিরে আসায় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে স্ত্রী ও সন্তানরা মিলে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে লাগেজ ও বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।