এর আগে, মঙ্গলবার এক জোড়া বাঘ পাঠানো হয় রংপুর চিড়িয়াখানায়। লাল কাপড়ে মোড়ানো লোহার দুইটি খাঁচায় ঢুকিয়ে বাঘগুলো নিয়ে যাওয়া হয়।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, চিড়িয়াখানায় আসা পুরুষ জলহস্তীটির বয়স ১২ বছর। দ্বিতীয় ধাপে সপ্তাহখানেক পর আরো একটি জলহস্তী আসবে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। কুমিরের আগের জায়গায় নতুন করে প্রস্তুত করা হয়েছে জলহস্তীর বাসস্থান। কুমিরের খাঁচা স্থাপন করা হয়েছে পাহাড়ের পশ্চিম পাশে লেকের মধ্যে প্রাকৃতিক পরিবেশে।
.png)
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে এক জোড়া বাঘ রংপুর চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়। এর বিনিময়ে বৃহস্পতিবার প্রথম ধাপে একটি পুরুষ জলহস্তী চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় এসেছে। এর বয়স ১২ বছর। ৫-৭ দিন পর দ্বিতীয় ধাপে আরেকটি জলহস্তী আসবে।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ১৬টি বাঘ ছিল। এর মধ্যে দুইটি রংপুর পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১৪টি বাঘ আছে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় নতুন জলহস্তীসহ বর্তমানে প্রাণীর সংখ্যা ৬২০টি। এ চিড়িয়াখানায় সর্বমোট ৬৮ প্রজাতির পশুপাখি রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৪ প্রজাতির পাখি ও চার প্রজাতির সরীসৃপ প্রাণী রয়েছে।
প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় সংযোজিত জলহস্তী জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামবাসীর জন্য উপহার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
২০২১ সালের শেষদিকে মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে জলহস্তী চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রহমান। এ এরপর ২০২২ সালের ২২ আগস্ট আবারো চিঠি দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিনিময় হিসেবে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে রংপুরের জন্য এক জোড়া বাঘ এবং ঢাকার জন্য এক জোড়া সাম্বার হরিণ ও এক জোড়া ইন্দোনেশিয়ান আয়াম সিয়ামি মোরগ দেওয়ার প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি রংপুর চিড়িয়াখানায় বাঘ পাঠানো এবং জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে জলহস্তী চট্টগ্রামে আনার যাবতীয় ব্যয়ভার চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কাছে বহন করার কথা বলা হয়। এসব প্রক্রিয়া মেনে গত ১২ জানুয়ারি রংপুরে বাঘ পাঠানো এবং ঢাকা থেকে জলহস্তী আনার কথা জানিয়ে চিঠি দেয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। এরপর গত ১৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জলহস্তী দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় মন্ত্রণালয়।
এর আগে, চলতি বছরের ১৬ মার্চ দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এক জোড়া সিংহ আনা হয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। একই সময় আনা হয় চার জোড়া ওয়াইল্ড বিস্ট। দরপত্রের মাধ্যমে এক কোটি ৬৯ লাখ টাকায় সিংহ, ম্যাকাও, ওয়াইল্ড বিস্ট, ক্যাঙ্গারু, লামা আমদানি করা হয়। ফ্যালকন ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রাণীগুলো আমদানি করে।