এর আগে, মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন শিবু মার্কেট সংলগ্ন বটতলা রেইলগেইট এলাকা থেকে রাসেলকে গ্রেফতার করে কিশোরগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। রাসেল কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া বটতলা এলাকার আব্দুল আউয়ালের ছেলে।
পিবিআই কিশোরগঞ্জের পুলিশ পরিদর্শক মো. সাখরুল হক খান জানান, দীর্ঘদিন যাবত মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আব্দুল আউয়ালের পরিবার। চার কেজি গাঁজা বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে তার স্ত্রী রেহেনা আক্তার, ছেলে রাসেল ও মেয়ের জামাই তামিমের মনোমালিন্য হয়। এরই জেরে রাসেল স্ত্রী-সন্তানসহ অন্যত্র বাসা ভাড়া করে চলে যান।
.png)
গত ১০ সেপ্টেম্বর রাত আড়াইটার দিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ছেলে রাসেল, জামাতা তামিম, স্ত্রী রেহেনা আক্তার ও অজ্ঞাত ৩-৪ জন লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আব্দুল আউয়ালের দোকানের সামনে যায়। তারা দোকানের সাটারে জোরে আওয়াজ করতে থাকে। শব্দ শুনে ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই আব্দুল আউয়ালের চোখে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারেন জামাতা তামিম। পরে শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন।
তিনি আরো জানান, অজ্ঞাতনামা আসামিরা লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আব্দুল আউয়ালকে মারধর করেন। তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আব্দুল আউয়ালকে উদ্ধার করে অটোরিকশায় তুলে হাসপাতালে নেয়ার সময় আবারো হামলা চালানো হয়। পরে মৃত্যু হয়েছে ভেবে চলে যান তারা।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ-২৫০ শয্যা জেনারেল নিলে চিকিৎসক ময়মনসিংহে রেফার্ড করেন। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুল আউয়াল।
পুলিশ পরিদর্শক মো. সাখরুল হক খান বলেন, এ ঘটনায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় তিনজনের নামোল্লেখ ও অজ্ঞাত চারজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা আবু সাহেদ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে কিশোরগঞ্জ পিবিআই। পরে ওইদিন রাতেই রাসেলকে গ্রেফতার করে পুলিশ।