সন্ধ্যা নামার আগেই হাসাপাতাল চত্বরে কিচিরমিচির এবং সকাল হলেই উড়াল দেওয়া পাখিদের প্রতিদিনের রুটিনে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালে পাখিদের এমন বিচরণ সেখানকার রোগী ও স্বজনদের মন ভালো করে দিচ্ছে।
জানা গেছে, হাসাপাতালের ছাদ ও চারিদিকের বিভিন্ন গাছে আশ্রয় নেয়া চড়ুই পাখিগুলো পাতি চড়ূই জাতের৷ এসব পাখির দেহ উজ্জ্বল কালো, বাদামি ও ধূসর চিহ্নযুক্ত। হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে ফুলের বাগানের পাশাপাশি আম, রেইনট্রিসহ বিভিন্ন জাতের গাছ রয়েছে। প্রতিদিন এসব গাছে-গাছে আসে লক্ষাধিক চড়ূই পাখির ঝাঁক। এসব পাখির কলরব তৈরি হয় হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরের প্রতিটি গাছে কিচিরমিচির শব্দে। প্রতিদিন সন্ধ্যার আগেই শুরু হয় পাখিদের আশ্রয় নেয়ার মহড়া। এরপর গাছে-গাছে আশ্রয় নেয়।
.png)
মূলত, এসব পাখি শহর বা গ্রামে, মানববসতির কাছাকাছি যেকোনো পরিবেশে তারা নিজেদের স্বাচ্ছন্দে মানিয়ে নিতে পারে। প্রতিকূল পরিবেশে খাপখাইয়ে নেয়ার অসাধারণ ক্ষমতা থাকলেও সাধারণত জনহীন বনভূমি, তৃণভূমি ও মরুভূমিতে এসব পাখি বসবাস করে না। শস্যদানা ও আগাছার বীজ চড়ুই পাখির প্রধান খাদ্য হলেও সুযোগ পেলে পোকামাকড়, উচ্ছিষ্ট ও নানান রকমের খাবার পেলে ছাড়ে না।
হাসপাতালে ভর্তি রোগী চাঁনমিয়া বলেন, সকাল-সন্ধ্যা হলেই পাখিদের যাওয়া আসা ও কিচিরমিচির শব্দ আমাদের মন ভালো করে দেয়। সেসময় জানালা খুলে দিয়ে তা উপভোগ করি। খুব ভালো লাগে।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন মাহফুজ রাজা বলেন, হাসপাতাল মানেই নানা দুঃখ-কষ্ট যন্ত্রণার জায়গা। এখানে বিপদে পড়েই মানুষ আসতে বাধ্য হয়। তাই স্বাভাবিকভাবেই সকলের মন খারাপ থাকে। কিন্তু পাখিদের এমন বিচরণ সাময়িক সময়ের জন্য হলেও রোগী ও তাদের স্বজনদের মন ভালো করে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসান জিকো বলেন, সারারাত পাখিগুলো হাসপাতালেট ছাদ ও আশেপাশের গাছে থাকে। সকাল হলেই বেরিয়ে পড়ে। সারাদিন মাঠেঘাটে আহার করে আবার সন্ধ্যায় ফিরে আসে। এখানে এসব পাখিগুলোকে কেই বিরক্ত করো না। যে কারণে তারা এখানে অবস্থান করে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের এসব পাখিদের বিরক্ত না করার অনুরোধ করেন তিনি।