বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো. রোকনুজ্জামান আসামির উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন।
জানা গেছে, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে আবুল কালাম ২০০৮ সালে ১ ডিসেম্বর প্রতিবেশী প্রতিবন্ধী মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। এরপর ২০০৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেয়ের বাবা বাদী হয়ে পীরগাছা থানায় মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী মেয়ে, তার সন্তান এবং আসামি আবুল কালামের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে ধর্ষণ ও সন্তান আসামির বলে প্রমাণিত হয়। এ মামলায় দীর্ঘদিন আবুল কালাম সাজা খাটে।
.png)
পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে শর্ত স্বাপেক্ষে জামিনে মুক্তি পেয়ে আবুল কালাম ২০১৭ সালের ১৬ জুন রাতে ওই প্রতিবন্ধী মেয়েকে অপহরণের হুমকিসহ তার চাচা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গালিগালাজ করে। এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী মেয়ের বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে আবুল কালাম ক্ষিপ্ত হয়ে ২০১৭ সালের ৭ নভেম্বর রাতে ওই প্রতিবন্ধী মেয়েকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় ওই মেয়ের মা ঘটনাটি দেখে ফেলে এবং এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানায়।
এ ঘটনায় প্রতিবন্ধী মেয়ের বাবা ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর পীরগাছা থানায় আবুল কালামের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করলে পুলিশ অপহৃত ওই মেয়েকে উদ্ধারসহ আসামি আবুল কালামকে গ্রেফতার করে। এরপর আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামি আবুল কালামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আদালতে সন্দেহাতিত ভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম তুহিন বলেন, অপহরণের মামলায় আসামি আবুল কালামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। বাদী ন্যায় বিচার পেয়েছে।