ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

টমেটো চাষে মুস্তাকিমের ভাগ্য বদল

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ১৫:৪৭, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩
টমেটো চাষে মুস্তাকিমের ভাগ্য বদল
মুস্তাকিমের চাষকৃত টমেটো- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় আগাম টমেটো চাষ করে ভাগ্য বদল করেছেন প্রবাসফেরত মুস্তাকিম সরকার। বন বেগুন গাছের সঙ্গে বারি-৮ জাতের টমেটোর চারা গ্রাফটিং পদ্ধতিতে চাষ করে তিনি এ সাফল্য অর্জন করেন। স্থানীয় বাজারে বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় তিনি বেজায় খুশি।

গত ১৫ দিন ধরে মুস্তাকিমের চাষকৃত টমেটো স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি করছেন ৯০-১০০ টাকায়। তার উৎপাদিত টমেটো এ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে তিনি ৫০ লাখ টাকার উপর টমেটো বিক্রি হবে বলে আশা করছেন।

মুস্তাকিম সরকার উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের ধাতুরপহেলা গ্রামের রফিকুল ইসলাম সরকারের ছেলে। পরিবারে তার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। গত প্রায় ৪ বছর আগে আদমপুর গ্রামে মায়ের দোয়া বহুমুখী বিশাল কৃষি খামার গড়ে তুলেন। এরই মধ্যে তার এ কৃষি খামার এলাকায় বেশ পরিচিতি লাভ করেছে।

Advertisement

সরেজমিন আদমপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে প্রতিটি গাছে ঝুলে আছে ছোট-বড় টমেটো। যেদিকে দৃষ্টি পড়ে জমিতে দেখা যায় কাঁচা-পাকা টমেটোয় ছেয়ে গেছে পুরো মাঠ। সবজি চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। রাস্তার পাশে এই প্রকল্পটি হওয়ায় আগত ছোট-বড় সবার নজর কাড়ছে।

টমেটো চাষকৃত জমিতে মুস্তাকিমকৃষক মোস্তাকিম সরকার জানান, এ মৌসুমে গ্রাফটিং পদ্ধতিতে ইজারাকৃত ৩০ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১৫ বিঘা জমিতে টমেটোর ফলন এসেছে। গত ১০ দিন ধরে চলছে টমেটো বিক্রি। বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি টমেটো ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ পযর্ন্ত প্রায় ২ লাখ টাকার উপর টমেটো বিক্রি হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, আবহাওয়া অনুকূল ও বাজার দর ঠিক থাকলে সবমিলিয়ে ৫০ লাখ টাকার উপর টমেটো বিক্রি হবে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ও যাবতীয় খরচ বাদে টমেটো থেকে ২০-২২ লাখ টাকা আয় হবে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে টমেটো চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি খুবই খুশি।

মোস্তাকিম সরকার বলেন, প্রতি এক বিঘা জমিতে সেচ, বীজ, চারা রোপণ, জমি ইজারা, ওষুধ, পরিচর্যাসহ অন্যান্য খরচ প্রায় এক লাখ টাকার উপর হয়। আমার এই প্রকল্পে ১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন।

তিনি আরো বলেন, এক সময় আমি প্রবাসে ছিলাম। সেখানে ভালো করতে না পারায় দেশে চলে আসি। দেশে এসে আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি চাষের পরিককল্পনা নেই। কৃষি অফিস ও কৃষিবিদদের পরামর্শ এবং নিয়মিত ইউটিউব চ্যানেলে কৃষি সংক্রান্ত নানা বিষয় দেখে সবজি চাষ শুরু করি। গত ৪ বছর ধরে মৌসুম অনুযায়ী টমেটো, ক্যাপসিকাম, শসা, ঢেঁড়স, বেগুনসহ নানা প্রকার সবজি চাষ করছি। মাত্র এক বিঘা জমি থেকে বর্তমানে জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ বিঘায়।

মুস্তাকিমের চাষকৃত টমেটোপাইকার আলফু মিয়া বলেন, আমি মৌসুম অনুযায়ী সবসময় নানা প্রকারের সবজি বিক্রি করে থাকি। গত কয়েক দিন ধরে মুস্তাকিমের আগাম টমেটো বিক্রি করছি। স্থানীয় বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় বিক্রিতে বেশ লাভ হচ্ছে।

আদমপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, আসলে এই গ্রামের মানুষ একসময় শুধু ধান আবাদ করতেন। বন্যাসহ নানা কারণে প্রতিবছর এ চাষে তেমন লাভবান হতো না। কিন্তু মুস্তাকিম সরকার সবজি আবাদ করে জমিগুলোকে লাভজনক জমিতে পরিণত করেন।

আখাউড়া উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে অনেকেই লাভবান হচ্ছেন। এ পদ্ধতিতে ক্ষতির পরিমাণ নেই বললেই চলে। আগাম টমেটোর চাষ করা যায়। ৬-৭ মাস পর্যন্ত ফলন হয়। সেইসঙ্গে ফলন বেশি হয়ে থাকে। নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে কৃষক মুস্তাকিম সরকার কৃষিতে ভালো অবস্থান তৈরি করে বেশ সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি স্বল্প সময়ে এলাকায় একজন আদর্শ কৃষকে পরিণত হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, কম খরচে অধিক লাভের আশায় অনেকেই বাণিজ্যেকভাবে সবজি চাষ করছেন। ফলন বৃদ্ধিতে আমরা সবসময় কৃষকদেরকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে আসছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: আখাউড়া
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!