মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বানরটি খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বানরটিকে তরল খাবার খাওয়ানো হচ্ছিল। আমরা অনেক চেষ্টা করেও সেটিকে বাঁচাতে পারলাম না। বানরটির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত ছিল। যন্ত্রণায় কাতর ছিল। গতকাল থেকে শারীরিক অবস্থা একদম খারাপ হয়ে যায়।
.png)
শনিবার বিকেলে পিঠ-পা ঝলসানো অবস্থায় সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায় যন্ত্রণায় কাতর বানরটি। এদিন প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বিষয়টি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় ও বন বিভাগকে জানানো হয়। প্রথম দিন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেলেও পরের দিন রোববার বিকেলে আবারো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায় বানরটি। দ্বিতীয় দিন প্রাথমিক চিকিৎসা ও ড্রেসিং শেষে ব্যান্ডেজ করে বানরটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। যথারীতি তৃতীয় দিন সোমবার সকালে পুনরায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাজির হয় আহত সেই বানর। এদিন তার ক্ষতস্থানের ব্যান্ডেজ পাল্টে দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে সেখানে যান উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও প্রাণী চিকিৎসকদের একটি দল। তাদের তত্ত্বাবধানে বানরটিকে চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বানরটিকে সীতাকুণ্ডের পৌর সদর বাজার, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বানরটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে উঠলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারাত্মক আহত হয়ে জ্ঞান হারায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে মাথায় পানি ঢাললে কিছুটা সুস্থ হয়ে বানরটি জঙ্গলের দিকে চলে যায়। পরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া স্থানে সৃষ্ট ক্ষত মারাত্মক আকার ধারণ করলে বানরটি শনিবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মীরা বানরটিকে চিকিৎসা দেন।