ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অসুস্থ বিড়ালকে নিয়ে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে শিশু

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ৩১ আগস্ট ২০২৩
অসুস্থ বিড়ালকে নিয়ে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে শিশু
নিজের অসুস্থ পোষা বিড়ালকে নিয়ে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থী জাকি হাসান দিদার- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ নিজের শখের পোষা বিড়াল। নেই খাওয়া-ধাওয়া। দিনদিন ঝিমিয়ে পড়ছে বিড়ালটি। আগের মতো করছে না খেলাধুলা। এতে করে মন খারাপ শিশু জাকি হাসান দিদারের। সে ভোলার লালমোহন পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগর চৌমুহনি এলাকার বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে। এছাড়া লালমোহন হাইস্কুল সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী দিদার।

বিড়ালের অসুস্থতায় তার মনে শান্তি মিলছে না। যেন নিঃসঙ্গ হয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থী জাকি হাসান দিদার। তাই নিজের শখের পোষা বিড়ালকে চিকিৎসা করাতে একাই নিয়ে যায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে। বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের কাছে তার পোষা বিড়ালের অসুস্থতার কথা জানিয়ে চিকিৎসা করায়।

শিশু জাকি হাসান দিদার জানায়, বিড়ালটি আমার সঙ্গে দুষ্টুমি করতো। তাকে প্রতিদিন যত্ন করে গোসল করিয়ে দেই। আবার বিড়ালটিকে নিজ হাতে ভাত-মাছ-মাংস খেতে দেই। তবে গত কয়েকদিন ধরে বিড়ালটির খাওয়া-ধাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। দিনদিন অসুস্থতা বাড়ছে বিড়ালটির। এজন্য এটি চিকিৎসার জন্য পশু হাসপাতাল নিয়েছি। সেখানে নেয়ার পর বিড়ালকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়েছে। এরপর বিড়ালটি নিয়ে বাড়িতে চলে আসি।

Advertisement

ঐ শিক্ষার্থীর বাবা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, বছর দুয়েক আগে দিদার তার নানাবাড়ি থেকে দেশীয় প্রজাতির একটি বিড়াল ছানা পালতে আনে। এর বছর খানেক পর হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ঐ বিড়ালটি। এরপর আমার ছেলের মন খারাপ হয়ে যায়। তখন আমি নতুন করে আরেকটি দেশীয় প্রজাতির বিড়াল নিয়ে দেই তাকে। এক মাস পরে ঐ বিড়ালটি হারিয়ে যায়। তখন মন মরা হয়ে পড়ে দিদার। পরে বিড়ালের বিষয়ে তার দাদির সঙ্গে আলোচনা করলে তাকে আরেকটি বিড়াল দেওয়া হয়। এরপর থেকে বিড়ালটি পরম যত্নে পালতে শুরু করে দিদার।

বিড়ালটিই যেন তার সবকিছু। বিড়ালটিকে নিজ হাতে গোসল করানো থেকে খাওয়ানো, প্রতিদিন নিয়ম করে এর সবই করছে দিদার। এমনকি প্রতিনিয়ত বিড়ালটিকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমায় সে।

জাহিদুল ইসলাম আরো বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিড়ালটি অসুস্থ। এজন্য মন খারাপ আমার ছেলের। ব্যস্ততার কারণে বিড়ালটিকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছিলাম না। বিষয়টি একজনের সঙ্গে আলোচনা করলে তিনি পরামর্শ দেন বিড়ালটিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে যেতে। চিকিৎসার বিষয়ে দিদারকে জানালে সে আমার অনুপস্থিতিতে একাই বিড়ালটিকে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসায় এসে শুনি সে বিড়ালের চিকিৎসা করিয়ে এনেছে।

এ বিষয়ে লালমোহন প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. লোকমান জানান, দুপুরের দিকে এক শিশু তার পোষা বিড়ালকে নিয়ে এখানে এসেছে। পরে বিড়ালের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এছাড়া বিড়ালের জন্য প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়। ওষুধগুলো ঠিকমতো খাওয়ালে আশা করা যায়- বিড়ালটি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!