ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঘের পাড়ে সাম্মাম চাষে শিক্ষকের চমক

শফিকুল ইসলাম খোকন, পাথরঘাটা (বরগুনা)
প্রকাশিত: ১২:১০, ৩০ আগস্ট ২০২৩
ঘের পাড়ে সাম্মাম চাষে শিক্ষকের চমক
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছোটবেলা থেকেই বাবার কাজের সহযোগিতা করেছেন। পাশে থেকে শিখেছেন কৃষি কাজ। বাবার কাজের সহযোগিতা করে অর্জন করেছেন উচ্চ শিক্ষাও। স্নাতকোত্তর শেষে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করছেন। ইংরেজি বিষয়ে শতভাগ পাস করিয়ে প্রশংসাও কুড়িয়েছেন তিনি। এতো ব্যস্ততার মধ্যেও কৃষি কাজ করে চমক দেখালেন তরিকুল ইসলাম। 

তরিকুল ইসলাম বরগুনার উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। পাথরঘাটার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত তাসলিমা মেমোরিয়াল একাডেমির ইংরেজি বিষয় সহকারী শিক্ষক। শিক্ষকতা পেশায় থেকেও নিয়মিত কৃষি কাজ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। অসময়ে সাম্মাম আর তরমুজ চাষ করে দেখিয়েছেন চমক।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে থেকে কৃষি কাজ শিখেছি। বাবা কৃষি কাজ করে আমাদের লেখাপড়া করিয়েছেন। একেতো আমাদের এলাকা কৃষি নির্ভর, তারপর কৃষি পরিবার। সে কারণেই কৃষি মন দিয়ে কাজ করছি। প্রতিদিন বিদ্যালয়ের কাজ‌ শেষ করে বাড়িতে এসে কৃষি কাজ করি। আমার কাজে বাবাও সহযোগিতা করেন। 

Advertisement

তিনি বলেন, প্রথমে আমি ধান ও তরমুজসহ রবিশস্য চাষ করতাম। পরে অনলাইনে সাম্মাম চাষ দেখে রংপুর থেকে বীজ সংগ্রহ করে পরীক্ষামূলকভাবে চার বছর আগে অল্প জায়গায় চাষ করেছি। প্রথম চাষ করার পর অনেকেই বলেছিলেন সাম্মাম চাষ এলাকায় হবে না। আমি টার্গেট নিয়ে পুনরায় চাষ করেছি। পরের বছর থেকে অসময়ই সাম্মাম চাষ করে লাভের মুখ দেখেছি। এখন মাছের ঘেরের চারপাশে পরিত্যক্ত ২৬ ফুট জমিতে ৫০০ বীজ রোপণ করেছি। অসময়েও ভালো ফলন হয়েছে।

মূলত সাম্মাম চাষ হয় মরুভূমিতে। তবে আমি চাষ করছি অসময়ে। সাম্মাম চাষের মৌসুম হলো ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত। আর আমি চাষ করেছি মে থেকে জুলাইয়ে। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার ওপরে বিক্রি করেছি। অল্প জমিতে সাম্মাম চাষ করা যায়। খরচও কম হয়। তবে বেশি যত্ন নিতে হয়।

সাম্মাম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। একেকটির ওজন আধা কেজি থেকে ২ কেজি পর্যন্ত। তরমুজ কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, একেকটির ওজন আধা কেজি থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত। এ ফল খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছি। এ বছর সাম্মাম থেকেই আয়ের লক্ষ্যমাত্রা তিন লাখ টাকা। তরমুজ ও সাম্মাম মিলিয়ে প্রতি বছর ৫-৬ লাখ টাকা আয় হয় আমার। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত হোসেন বলেন, সাম্মাম মরুভূমি ও পাহাড়ির ফল। কিন্তু উপকূলীয় অঞ্চলে এটি নতুন। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা বুঝতে পারছি উপকূলীয় অঞ্চলে লবনাক্ততায়ও চাষ করা যায় এবং ভালো ফলনও হয়।

তিনি আরো বলেন, যেহেতু এ অঞ্চলে ফলটি নতুন। তাই এ ফলের স্বাদ বা উপকারিতা এবং বাজারজাত নিয়ে প্রচার-প্রচারণা দরকার।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
ট্যাগ: বরগুনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!