অভিযুক্ত আমির হোসেন মাদারীপুর নতুন এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর নতুন শহরের বাসিন্দা আমির হোসেন তার নিজ স্ত্রী আখি বেগম, তার মা, বোন, দুলা ভাই এবং দুই ভাগ্নেকে ফাঁসাতে নিজের মাথায় ব্যান্ডেজ পরে জেলা দায়রা আদালতের বিজ্ঞ বিচারকের সামনে দাঁড়ান। পরে বিষয়টি আমলে নিয়ে বিচারক মামুনুর রশিদ অভিযোগকারীর বক্তব্য শুনেন।
.png)
অভিযোগকারী বলেন, ‘আমার স্ত্রী আখি বেগম, তার মা, বোন, দুলা ভাই এবং দুই ভাগ্নে মিলে আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। মাথায় ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে।’ পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বিচারক মাথার ব্যান্ডেজ খুলতে বলেন। অভিযোগকারী জানান, ডাক্তার ব্যান্ডেজ খুলতে মানা করেছেন। এ সময় বিচারকের নির্দেশে প্রসেস সার্ভার সোনা মিয়া মজুমদার অভিযোগকারীর মাথার ব্যান্ডেজ খুলে দেখেন তার মাথায় কোনো আঘাতের চিহ্নই নেই।
পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওয়াহিদুজ্জামান বাদী হয়ে অভিযোগকারী আমির হোসেনকে আসামি করে দণ্ডবিধি আইনের ২১১ ধারায় মামলা করেন। বিজ্ঞ বিচারক তা আমলে নিয়ে আমির হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
অভিযোগকারীর স্ত্রী আখি বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে কেউ মারেনি। সে নিজেই ডাক্তারের কাছে গিয়ে মাথায় ব্যান্ডেজ করে আদালতে হাজির হয়েছে আমাদের নামে মামলা দেওয়ার জন্য। সে ঘর থেকে বের হয়ে বলে তোদেরকে আজকে জেলের ভাত খাওয়ামু। কিন্তু আজকে আমরা বিচারক স্যারের জন্য রক্ষা পেলাম’।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া হাওলাদার বলেন, আজকে একটি পরিবার মিথ্যা মামলায় থেকে বেঁচে গেল। অভিযোগকারী আমির হোসেনের মাথায় ব্যান্ডেজ দেখেই বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের সন্দেহ হয়। এক পর্যায়ে সন্দেহ থেকেই সত্য উদঘাটিত হলো।
পরে এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের ছড়িয়ে পড়লে সচেতনমহল চিফ জুডিসিয়াল আদালতের বিচারককে অভিনন্দন এবং শুভকামনা জানান।