জানা গেছে, চায়না দুয়ারী জাল কারেন্ট জালের মতো মিহি ও হালকা এবং এই জাল সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে মাছ ধরতে সক্ষম। এই জালের বুননে একটি গিঁঠ থেকে আরেকটি গিঁঠের দূরত্ব খুব কম, যে কারণে এতে মাছ একবার ঢুকলে আর বের হতে পারে না। জেলেদের অনেকে এই জাল ব্যবহার করে খুশি। এদিকে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, এ জাল মাছসহ জলজ জীববৈচিত্রের জন্য কারেন্ট জালের চাইতেও ক্ষতিকর।
দেখা গেছে, কলাপাড়া, রাঙ্গবালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলের খাল-বিলে এসব জালের অবাধে ব্যবহার চলছে। জেলেরা এসব জাল দিয়ে মৎস পোনা শিকার করছে। অথচ বাংলাদেশে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, উন্মুক্ত জলাশয়ে জন্মানো প্রতিটি মাছকে একবার ডিম ছাড়া ও বাচ্চা ফুটানোর সুযোগ দিতে হবে। তার আগে মাছের পোনা ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে দেশি মাছের পোনা ধরছে জেলেরা। স্থানীয় হাটে এসব মাছ ২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে।
.png)
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় সারা বছরই কাজ করছি। বিভিন্ন সময় আমরা জেলেদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছি। তারপরও যে সব জেলেরা এ ধরনের কাজে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, এভাবে ছোট মাছ ধ্বংস করা হলে দেশি মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। নির্বিচারে দেশীয় ছোট মাছ নিধন হলে ভবিষ্যতে মাছ খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে। প্রশাসনের উচিৎ দেশীয় মাছ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা। ভ্রাম্যমাণ অভিযানের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনলে এমনিতেই মাছ নিধন কমে যাবে।
আন্তর্জাতিক মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড ফিস ইকো ফিস (২) এর সহযোগী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, এ জালে দেশি প্রজাতির মাছের পোনা মারা যাচ্ছে। এ ধরণের জাল বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্থানীয় প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারী করলে দেশি মাছ রক্ষা করা সম্ভব।