তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহার পরিকল্পনায় গত জুলাই থেকে প্রাথমিকভাবে উপজেলার বাংলাবান্ধা ও দেবনগর ইউনিয়ন পরিষদের রফতানি টোল ট্যাক্স আদায়ের জন্য ইজারাদার নিয়োগ প্রদান কার্যক্রম অনলাইন ই-ইজারা সিস্টেমের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন বিনষ্টযোগ্য ও কনডেমড ঘোষণাকৃত সামগ্রী নিলামে বিক্রয়ের জন্য অনলাইন প্লাটফর্ম (uzpseba.gov.bd) চালু করা হয়েছে। ই-নিলামে একদিকে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনি অন্যদিকে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এই অনলাইন প্লাটফর্মটি চালুর পূর্বে আগ্রহী দরদাতারা সনাতন পদ্ধতিতে হাতে হাতে বিভিন্ন নিলাম, ইজারা ও টেন্ডার দরপত্র দাখিল করতেন। এতে দরপত্র দাখিলে ধীরগতি, সময় অপচয় ও বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতো। তবে, ডিজিটাল ও স্মার্ট উপায়ে অনলাইন ই-টেন্ডার চালু হওয়ার ফলে আবেদনকারীরা যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকেই দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট উপস্থাপন করে তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন নিলাম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারছেন। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত নিলাম কার্যক্রম সমূহ অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে বাস্তবায়নের ফলে নিলাম প্রক্রিয়ায় কোনো প্রকার অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই মর্মে জানিয়েছেন অনলাইন নিলাম কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীরা।
.png)
এছাড়াও, এই অনলাইন প্লাটফর্মটি থেকে ইমরাত ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন এবং গভীর-অগভীর নলকূপ স্থাপনের লাইসেন্স সেবা নিতে পারছেন।
নিলামে অংশগ্রহণকারী তেঁতুলিয়া উপজেলার সদরের ব্যবসায়ীরা জানান, সনাতন পদ্ধতিতে অনেক সময় আমরা ইজারা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারতাম না। কারণ, ইজারা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার পূর্বেই কতিপয় ব্যক্তিগণ সিন্ডিকেট তৈরি করতেন এবং আমাদেরকে সিডিউল ড্রপ করতে বাধা প্রদান করতেন। ফলে, সরকারি মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ মূল্যে ইজারা বা নিলাম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার ইচ্ছা থাকলেও সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হতো না। এছাড়াও, এতে প্রতিযোগিতার কোনো সুযোগ ছিল না এবং সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতো। স্মার্ট ইজারা বা নিলাম পদ্ধতির কারণে বর্তমানে নিলামে আগ্রহী ব্যক্তিরা দেশের যেকোনো জায়গা থেকে স্মার্টফোনের মাধ্যমেই অনলাইনে ইজারা বা নিলাম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী তৌহিদ হাসান তুহিন ও রেজাউল করিম বিপ্লব জানান, আমরা উপজেলার বিভিন্ন নিলামে অংশগ্রহণ করি। আগে টেন্ডারে অংশ নিলে হাতে হাতে দরপত্র জমা দিতে হতো। এখন আর কোনো ঝামেলা নেই। নতুন এই সিস্টেম চালুর ফলে আমরা মুহূর্তের মধ্যে দরপত্র দাখিল করতে পারছি, এতে কোনো সময় নষ্ট এবং কোথাও যেতে হচ্ছে না।
বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কুদরত-ই খুদা মিলন বলেন, আগে সনাতন পদ্ধতিতে নিলাম ও ইজারার টেন্ডারের আবেদন গ্রহন করা হতো। এতে আমাদের অনেক ঝামেলা ও সময় লাগতো। কিন্তু এখন অনলাইনের মাধ্যমে আবেদনকারীরা বাড়িতে বসে আবেদন ও ডকুমেন্টস জমা দিতে পারায় তাদের যেমন সুবিধা হয়েছে তেমনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ই-নিলাম সিস্টেমের উদ্যোক্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, আমরা এরমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা পরিষদের সব সেবা নাগরিকদের ক্যাসলেসের পদ্ধতিতে প্রদান করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন নিলাম ও ইজারার দরপত্রের (টেন্ডার) কার্যক্রমে গতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে হাতে-হাতে দরপত্র (টেন্ডার) জমা দেওয়ার সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তন করে ই-নিলাম ও ইজারা প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ফলে আগ্রহী ব্যক্তিরা কোনো প্রকার বাধা ও বিঘ্ন ব্যতীত এবং শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই নিজস্ব স্মার্টফোনের মাধ্যমে অথবা যেকোনো কম্পিউটারের দোকান থেকে অনলাইনে ইজারা বা নিলাম কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া নিজ ইচ্ছামফিক দর দাখিল করতে পারবেন। সিস্টেমটি দু’মাস ধরে চালু রয়েছে। আমরা আশাবাদী, এই সিস্টেমের মধ্যে খুব সহজে ও কম সময়ে আগ্রহী ব্যক্তিরা যেকোনো নিলাম ও ইজারায় দরপত্র দাখিল করে অংশগ্রহণ করতে পারছেন।