দেশীয় পদ্ধতিতে কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়া লাউসহ নানা প্রকারের সবজি চাষ করে মামুন এলাকায় চকম সৃষ্টি করেছেন। ইতিমধ্যে এলাকায় একজন আদর্শ কৃষক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। এসব চাষ করে বছরে তার আয় দেড় লাখ টাকার উপর। কলেজছাত্র মামুন আখাউড়া পৌরশহরের বড়বাজার সংলগ্ন মক্কি নগর এলাকার মো. কবির আহম্মেদের ছেলে। মামুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে অনার্সে অধ্যয়ন করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাচায় ঝুলে আছে অসংখ্য ছোট বড় লাউ। পাশাপাশি রয়েছে নানা প্রকারের সবজিও। প্রতিনিয়ত সকাল বিকেল চলছে সবজি ক্ষেত পরিচর্যা। বাজারে বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়ায় মামুন বেশ খুশি। এরইমধ্যে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন দেখতে ও পরামর্শ নিতে আসছেন তার কাছে।
.png)
মামুন জানান, ছোট বেলা থেকেই তার সবজি চাষের শখ ছিল। সব সময় তিনি ইউটিউবে কৃষি চাষ পদ্ধতি দেখতেন। একপর্যায়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে যোগাযোগ করলে এ চাষে তারা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে। এরপর বাড়ি সংলগ্ন দেড় বিঘা জায়গায় মধ্যে পারিবারিক পুষ্টির চাহিদা মেটাতে আধুনিক পদ্ধতিতে লাল শাক, বেগুন, করলাসহ নানা প্রজাতির সবজির আবাদ শুরু করেন। এতে তিনি ভালো সফলতা পান। এরপর থেকে সবজি চাষের প্রতি তার আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। তিন বছর ধরে মালচিং পদ্ধতিতে কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়া দেশি জাতের লাউ চাষ করছেন।

তিনি আরো জানান, গত বছর মালচিং পদ্ধতিতে দেশি জাতের লাউ আবাদে জমি তৈরি, চারা, সার, বালাইনাশক, বীজ, রোপণ, মাচা তৈরি, আগাছা পরিষ্কার ও শ্রমিকসহ প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। স্থানীয় বাজারে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা বিক্রি করেন তিনি। গত বছরের মাচাসহ অন্যান্য জিনিস থাকায় এবার লাউ চাষে তার মাত্র পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। লাউয়ের চারা রোপণের ৪৫ দিনের মাথায় তার গাছে ফলন আসে। এক সপ্তাহ ধরে চলছে লাউ বিকি কিনি। এক পিচ লাউ গড়ে ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৫০টি লাউ বিক্রি করছেন।
স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি সবজি ব্যবসায়ীরা তার ক্ষেত থেকেই লাউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি ২০ হাজার টাকার উপর লাউ বিক্রি করেছেন। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে এই জায়গা থেকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ৮০ হাজার টাকার উপর লাউ বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আশরাফ হোসেন বলেন, মামুন একজন কর্মঠ মানুষ। তিনি সময়কে খুবই গুরুত্ব দেন। পড়াশুনার পাশাপাশি মৌসুম অনুযায়ী বছরজুড়ে নানা প্রকারের সবজি চাষ করছেন। কোনো প্রকার কীটনাশক ছাড়া দেশীয় পদ্ধতিতে সবজি চাষ করায় নিয়মিত আমরা এখান থেকে সবজি কিনে থাকি।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ পদ্ধতিতে লাউ চাষ করার ফলে জমিতে আগাছা কম হয়। বর্তমানে ফলন বৃদ্ধিতে লাউ চাষে কৃষকরা মালচিং পেপার ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। লাউ গাছ মাচায় ওঠার পর থেকে ফুল আসতে শুরু করে। গাছে লাউ ধরার অল্প দিনে বাজারে বিক্রি করা যায়। এ পদ্ধতিতে লাউ চাষ খুব লাভজনক। কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার নেই বললেই চলে।
এ বিষয়ে উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিতে লাউ চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। মালচিং পদ্ধতিতে লাউ উৎপাদনে সাধারণত অন্যান্য ফসলের তুলনায় পরিশ্রম কম ও ফলন ভালো হয়। এতে রাসায়নিক ও কীটনাশক সারের ব্যাবহার না থাকায় ক্ষতিকর কোনো প্রভাব নেই। কলেজছাত্র মামুন সবজি চাষ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। তার মতো বেকার যুবকরা যদি কৃষিতে এগিয়ে আসেন তাহলে তাদেরকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।