ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

গোসলের ভিডিও ধারণ করে নারীকে ধর্ষণ, হাসপাতাল পরিচালক কারাগারে

নাটোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:১৮, ১১ আগস্ট ২০২৩
গোসলের ভিডিও ধারণ করে নারীকে ধর্ষণ, হাসপাতাল পরিচালক কারাগারে
উজ্জল মৃধা

নাটোরে গোসলের ভিডিও দিয়ে ব্লাকমেইল করে দুই বছর এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উজ্জল মৃধাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।  

বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোর সদর আমলি আদালতের বিচারক মো. রওশন আলমের আদালতে আত্মসমর্পণ করলে উজ্জলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

অভিযুক্ত উজ্জল মৃধা নাটোর শহরের কানাইখালি এলাকার বিসমিল্লাহ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি নলডাঙ্গা উপজেলার পূর্ব মাধনগর গ্রামের আক্তার হোসেনের ছেলে। 

Advertisement

জানা যায়, চার বছর আগে এক রোগীকে ক্লিনিকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে উজ্জলের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই নারীর। 
তখন নির্দিষ্ট কমিশন দেওয়ার শর্তে ভুক্তভোগী নারীকে ওই ক্লিনিকে রোগী পাঠাতে বলেন উজ্জ্বল। এভাবে ধীরে ধীরে উজ্জ্বলের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে উজ্জ্বল ওই নারীকে ক্লিনিকের মাঠকর্মী হিসেবে কাজের প্রস্তাব দিলে তিনি রাজি হন। তখন থেকে হাসপাতালে চাকরির পাশাপাশি রোগী বেশি থাকলে বা কোনো রোগীর রাতে অপারেশন হলে ভুক্তভোগী নারী রাতে হাসপাতালে অবস্থান করতেন।

২০২১ সালের মাঝামাঝি রোগীর চাপের কারণে একদিন হাসপাতালে অবস্থান করেন ওই নারী। ওইদিন বাথরুমে গোসলের সময় উজ্জ্বল গোপনে সেই ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওর কথা গোপন রেখে কথাবার্তার মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে অবৈধ সম্পর্কের প্রস্তাব দেন উজ্জ্বল। রাজি না হওয়ায় গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। ওই নারী ঘটনাটি পুলিশকে জানানোর উদ্যোগ নিলে উজ্জ্বল তার সামনে ফোন থেকে গোসলের ভিডিওটি ডিলিট করার আশ্বাস দেন।

উজ্জ্বলকে বিশ্বাস করে ওই নারী কাজে যোগ দিতে গেলে হাসপাতালের ছয় তলায় উজ্জ্বলের কক্ষে ডেকে নিয়ে রাতভর তাকে ধর্ষণ করেন। এই ধর্ষণের ভিডিও গোপন ক্যামেরায় ধারণ করেন উজ্জ্বল। এবার সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে টানা দুই বছর উজ্জ্বল ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। ওই সময় ওই নারী গর্ভধারণ করলে জোর করে তাকে গর্ভপাতে বাধ্য করেন। সর্বশেষ গত ২ জুন উজ্জ্বল আবারো ওই নারীকে হাসপাতালে তার কক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। এরপর ওইদিন তিনি নাটোর থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, গোপন ছবি ও গোসলের ভিডিও ধারণের পর ব্ল্যাকমেইল করে উজ্জ্বল শহরের একাধিক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। তার এই কাজে বিসমিল্লাহ হাসপাতালের অন্য পার্টনাররা জড়িত। তাদের সহযোগিতায় সে আমাকে দুই বছর ধরে ধর্ষণ করেছে। তার মোবাইল, ল্যাপটপ ও অন্য ডিভাইসে এসব ছবি ও ভিডিওর প্রমাণ পাওয়া যাবে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

নাটোর সদর থানার ওসি নাসিম আহমেদ বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে মামলাটি নিয়েছে। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে উজ্জ্বল কারাগারে আছে।

নাটোর জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের ভেতরে এক নারীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করার ঘটনাটি পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অভিযুক্ত পরিচালকের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা অন্য কোনো ডিভাইসে আরো নারীদের ব্ল্যাকমেইলের কোনো ছবি বা ভিডিও রয়েছে কি না তা অনুসন্ধান করবে পুলিশ। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!