ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

চট্টগ্রামে সাতদিনে ৬৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টি

মো. রাকিবুর রহমান, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ১৮:০২, ৮ আগস্ট ২০২৩
চট্টগ্রামে সাতদিনে ৬৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টি
চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাত

কয়েকদিনের টানা বর্ষণে জলমগ্ন চট্টগ্রাম। শুধু নগর নয়, একই অবস্থা বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতেও। গত এক সপ্তাহে ৬৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে, যা বিগত কয়েক বছরের বেশি- বলছে আবহাওয়া অফিস।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, চট্টগ্রামে আগস্টের প্রথম সাতদিনে ৬৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে শুক্রবার ৪২ দশমিক আট মিলিমিটার, শনিবার ৬৪ দশমিক দুই মিলিমিটার, রোববার ২৩১ দশমিক পাঁচ মিলিমিটার ও সোমবার ২১৬ দশমিক চার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

অন্যদিকে আবহাওয়া অফিসের আমবাগান কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ১২৫ মিলিমিটার, শনিবার ৭৭ মিলিমিটার, রোববার ১৯৬ মিলিমিটার ও সোমবার ২০৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

Advertisement

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ উজ্জ্বল কান্তি পাল বলেন, আগামীকাল বুধবারও এমন বৃষ্টিপাত থাকবে। এরপর থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমতে পারে। তবে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবারো ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাত

এদিকে, ভারী বর্ষণে প্লাবিত নগরের নিম্নাঞ্চলগুলোতে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। ঘরে পানি ঢুকে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে রান্নাসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম। সোমবার থেকে পানি কিছুটা কমে আসলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি অনেকের জীবনযাত্রা।

মঙ্গলবার সকাল থেকে চান্দগাঁও, বাদুরতলা, বাকলিয়া, কাপাসগোলা, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে- বেশকিছু দোকান ও বাসায় পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে মালামাল। অনেকের বাসার নিচতলায় থাকা পানির মোটর নষ্ট হয়ে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম বলেন, বৃষ্টিতে পুরো এলাকা ডুবে ছিল কয়েকদিন। বাসায়ও পানি ঢুকেছে। তবে গতকাল থেকে বৃষ্টি কমে আসায় পানি কমেছে।

অন্যদিকে, বন্যার পানিতে ভাসছে দুই উপজেলা সাতকানিয়া ও চন্দনাইশ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন সেখানকার অসংখ্য মানুষ। বসতঘরে ঢুকে পড়েছে পানি। শঙ্খ ও ডলুনদী দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল নদীর বাঁধ উপড়ে দুই থেকে তিন ফুট উঁচু হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাতকানিয়ার কেরানীহাট–বান্দরবান সড়ক ও কেরানীহাট–গুনাগরি সড়কের বিভিন্ন স্থানে কয়েক ফুট উঁচু হয়ে প্রবাহিত হচ্ছে সেই পানি। ফলে বান্দরবানের সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এরইমধ্যে বন্যা কবলিত মানুষের জন্য ২০ মেট্রিক টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সাতকানিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, পৌর এলাকার বন্যা পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। বর্তমানে পৌরসভার অধিকাংশ মানুষের বসতঘরে কোমর সমান পানি রয়েছে। ডলুনদীর বাঁধের ওপর দিয়ে দুই থেকে তিন ফুট উঁচু হয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এলাকার সব রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এখনো পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রামে রেকর্ড বৃষ্টিপাত

একই চিত্র চন্দনাইশেও। টানা বর্ষণের কারণে চন্দনাইশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সোমবার ভোর থেকে শঙ্খনদের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাশিমপুর বড়পাড়া এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি মহাসড়কের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এ মহাসড়কেও বন্ধ রয়েছে যান চলাচল।

চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আজাদ হোসেন জানান, বন্যায় পুরো উপজেলায় সবজি ও ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এরইমধ্যে ১২ হেক্টর সবজি, ২১ হেক্টর আউশ ধান, ৪৫০ হেক্টর আমনের বীজতলা ও ১৫ হেক্টর রোপা আমন ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

এছাড়া চন্দনাইশে পুকুরের সংখ্যা চার হাজার ২০০টি। এর মধ্যে নিম্নাঞ্চলের প্রায় দেড় হাজার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে জানান উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসান আহসানুল কবির। পানি বাড়তে থাকলে আরো মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সাতকানিয়া-চন্দনাইশ ছাড়াও টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে লোহাগাড়া, পটিয়া, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ডসহ কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। কিছু কিছু এলাকায় উপড়ে পড়ছে বড় গাছ। ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ।

চট্টগ্রাম পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি পটিয়া-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও দমকা বাতাসে প্রায় অর্ধশতাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। এছাড়া অন্তত তিন শতাধিক স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন মেরামতের কাজ চলছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!