বৃহস্পতিবার সকালে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের নয়নকান্দি গ্রামে গিয়ে এমনই চিত্র দেখা গেছে। এসব হাঁস, মুরগি, ছাগল ও শিয়ালের মালিক ঐ গ্রামের আজিজুল হক। তবে তাদের লালন পালন করেন তার স্ত্রী সুমা আক্তার। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে ঐ বাড়িতে উৎসুক জনতা ভিড় করছে। শিয়ালটির নাম আদর করে রাখা হয়েছে ‘লালু’।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লালু বাড়ির পাশে একটি টিলায় বসে আছে। উঠানে ১২টি ছাগল ও বেশ কয়েকটি হাঁস-মুরগি রয়েছে। গৃহিণী সুমা আক্তার একটি পাত্রে খাবার দিলে হাঁস-মুরগী ও লালু তারা সবাই ঐ পাত্রে খাবার খাচ্ছে। আর ছাগলগুলো তাদের চারপাশে ঘোরাঘুরি করছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, যেন তারা একই পরিবারের সদস্য।
.png)
শিয়াল পালন নিয়ে সুমা আক্তার বলেন, প্রথমে স্বামীর হাতে শিয়ালের ছানাটিকে দেখে রাগ হলেও কিছুক্ষণ পর মায়া জন্মে যায়। পরে দুধ খাইয়ে শিশুসন্তানের মতো শিয়ালটিকে বড় করেছি। প্রতিবেশীরা আগে আমাদের নিয়ে মশকরা করলেও এখন সবাই শিয়ালটিকে পছন্দ করে। সে পোষ মেনেছে। লালু নামে ডাক দিলে কাছে আসে। সব ধরনের খাবারই খায়। মানুষ, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল কাউকেই কামড় দেয় না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আকবর আলী বলেন, সকালে শিয়াল, ছাগল, হাঁস, মুরগিগুলো ছেড়ে দেওয়ার পর সেগুলো বাড়ির পাশে একটি টিলায় চলে যায়। দিন শেষে সন্ধ্যার আগেই শিয়ালটি অন্যগুলোকে তাড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। এটি দেখে মনে হয় যেন শিয়ালটি মালিকের আদেশ পালন করছে। তবে প্রতিবেশী ও অন্যান্য পশুপাখিকে কামড়ানো বা কোনো ধরনের অত্যাচার করে না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন আনোয়ার পারভেজ বলেন, আমরা জানি শেয়াল হচ্ছে মাংসাশী প্রাণী। যেসব প্রাণীর জলাতঙ্ক বা র্যাবিস হয় বা জীবাণু বহন করে, তাদের মধ্যে শেয়াল অন্যতম। সে ক্ষেত্রে জলাতঙ্ক টিকা শিয়াল ও তার পালনকারী দুজনেরই নেয়া উচিত।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ওয়াহিদুল আলম বলেন, শেয়াল তো বন্য প্রাণি এটি পালন করার ক্ষেত্রে অনুমতি নেয়ার দরকার আছে। অনুমতি ছাড়া পালন করা ঠিক নয়। তবে কামরে জলাতঙ্ক রোগ হয়। এক্ষেত্রে শিয়ালটিকে অবশ্যই জলাতঙ্কের ইনজেকশন দেওয়া দরকার। কলমাকান্দার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে বলব, ঐ গ্রামে গিয়ে পালনকারীকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলার জন্য।