বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মামুন শিবলী।
তিনি জানান, দুর্ঘটনাটি প্রথমত চালকের খামখেয়ালিপনা, দ্বিতীয়ত চালকের অপেশাদারী আচরণ ও তৃতীয়ত বিধি ভেঙে সড়কের পাশে বড় পুকুর খনন করা হয়েছিল। সড়কের পাশের বড় ও গভীর পুকুরটি মৃত্যুকূপ হিসেবে রূপ নিয়েছে। ঝালকাঠি থেকে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও পাথরঘাটা সড়কটি অত্যন্ত পুরাতন। এই সড়ক প্রশস্ত না করায় জমির মালিক সেখানে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করেছেন। সড়কটির দুই পাশে যদি মহাসড়কের মতই ১০ থেকে ১২ ফুট জমি অধিগ্রহণ করা থাকতো তাহলে দুর্ঘটনা ঘটলেও এত নিহত হতো না।
.png)
তিনি আরো জানান, তদন্তকারী আরো দুটি সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রকৃতপক্ষে বাসচালক মোহন খানের খামখেয়ালীপনায় ঘটেছে এ দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার আগে চালক সিটে বসে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা নিয়ে তর্ক করছিলেন। এমনকি মোবাইল চালাচ্ছিলেন। পরিবহন চলাচলে নির্দেশনা মেনে চলতে গরিমসির কথা উঠে এসেছে।
জেলা প্রশাসক ফারাহ গুল নিঝুম জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। সুপারিশ অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ঝালকাঠি সদর থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। এরমধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুলাই সকাল ১০টার দিকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে ঝালকাঠি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ছত্রকান্দা নামক স্থানে ‘বাশার স্মৃতি’ পরিবহন নামক বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। এতে ১৭ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরো ৩৫ জন।