মঙ্গলবার সকালে পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নিহত শিশু মুরসালিন মধুখালী উপজেলার মেগচামী ইউপির আশাপুরের দরিদ্র শ্রমিক মো. আশরাফুল শেখ ও ইতি খাতুন দম্পতির সন্তান।
.png)
জানা গেছে, প্রথম স্বামী আশরাফুলের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয় মুরসালিনের মা ইতি খাতুনের। পরে মিজানুর রহমান মিজানকে বিয়ে করেন ইতি খাতুন। মিজান-ইতি দম্পতির ঘরেও এক সন্তান রয়েছে।
স্বীকারোক্তিতে মিজান জানান,, ঘটনার দিন সকালে তিনি মরিচ ক্ষেতে কাজ করছিলেন। এ সময় মুরসালিনকে ডেকে জানতে চান তার মা কোথায় গেছে। প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না পেয়ে মুরসালিনের কানে থাপ্পড় মারেন তিনি। এতে কানের পর্দা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যায় মুরসালিন। পরে সড়কের পাশে বড় ঘাসের আবডালে মুরসালিনের লাশ লুকিয়ে রাখেন মিজান। রাতে মুরসালিনের লাশ বস্তাবন্দি করে বাড়ি থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে নিয়ে নদীর পাড়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখেন।
পিবিআই জানায়, মিজান তার স্ত্রী ইতিকে মারধর করতো বলে গত বছরের ২৩ জুলাই ইতি মুরসালিনকে তার মায়ের কাছে রেখে ঢাকা চলে যান। এর দুদিন পর গত বছরের ২৫ জুলাই মুরসালিন নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় মধুখালী থানায় মা ইতি খাতুন একটি জিডি করলেও কোনো খোঁজ মিলেনি মুরসালিনের।
এদিকে মুরসালিন নিখোঁজ হওয়ার ছয়মাস পরে গত ২৬ ডিসেম্বর মধুখালীর পশ্চিম গোন্দারদিয়া সরদারপাড়ায় চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পাড়ে বল খেলার সময় প্রথমে একটি মাথার খুলি বের হয়ে এলে সন্দেহবশত: প্লাস্টিকের বস্তা খুলে মানুষের হাড় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে প্লাস্টিকের ওই বস্তা থেকে প্রায় ৭০টি হাড় উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মধুখালী থানার এসআর সৈয়দ তোফাজ্জেল হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্তের পরেও এর রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় মামলাটির তদন্তভার পায় পিবিআই। এরপর পিবিআই ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন এস আই রামপ্রসাদ ঘোষকে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই ফরিদপুরের উপ-পরিদর্শক রামপ্রসাদ ঘোষ বলেন, হাড়ের পরিচয় শনাক্তের জন্য শিশু মুরসালিনের নিখোঁজ হওয়ার জিডির সূত্র ধরে তার মা ইতি ও বাবা আশরাফুল শেখের ডিএনএ টেস্টের জন্য ফরেনসিকে পাঠানো হয়। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে মুরসালিনের পরিচয় মিলে। এরপর হত্যা রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পিবিআই একটি স্পেশাল টিম গঠন করে।
এসআই রামপ্রসাদ ঘোষ বলেন, মামলা তদন্তের পর্যায়ে মুরসালিনের বাড়ির সামনের একটি চানাচুর ফ্যাক্টরির দারোয়ানের কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সৎ বাবা মিজানকে তিনি মুরমালিনকে ডেকে নিতে দেখেছেন। এরপর গত রোববার রাতে মাগুরার শ্রীপুর থানার ওয়াবদা মোড় থেকে মিজানকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের ৫ নম্বর আমলী আদালতের বিচারক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফরিদউদ্দীন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে শিশু মুরসালিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন মিজান।