ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাহাড়ে ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ

নুরুল আমিন, রাঙ্গামাটি
প্রকাশিত: ২১:১১, ১৯ জুলাই ২০২৩
পাহাড়ে ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

পাহাড়ি জেলা রাঙ্গামাটিতে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে বাড়ছে ম্যালেরিয়া রোগীর সংখ্যাও। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী রাঙ্গামাটির ৪টি উপজেলা জুরাছড়ি, বরকল, বাঘাইছড়ি এবং বিলাইছড়িতে ম্যালেরিয়া রোগের প্রার্দুভাব বেড়েই চলছে। জুরাছড়ি উপজেলায় গত জুন মাসে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে ৫১ শতাংশ রোগী। তবে এ রোগে এখন পর্যন্ত কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। 

এর পাশাপাশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত মোট ২৯ জন। রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৪ জন বলে জানিয়েছে রাঙ্গামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সাধারণত উষ্ণ আবহাওয়া যুক্ত অঞ্চলে ম্যালেরিয়া প্রার্দুভাব সবচেয়ে বেশি। রক্তপরীক্ষায় ম্যালেরিয়া জীবাণু ধরা পড়লে, সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছে পরামর্শ। 

Advertisement

চিকিৎসায় অবহেলা করলে, সংক্রমণ গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। সেক্ষেত্রে জন্ডিস, রক্ত স্বল্পতা, খিচুনি, মানসিক বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ম্যালেরিয়া আক্রান্তে কিডনি বিকল হওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে বলে জানিয়েছে বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় কোমায়ও চলে যেতে পারেন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগী। হতে পারে মৃত্যুও। 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, দুর্গম গ্রামগুলোতে ম্যালেরিয়া এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীদের গ্রামে গ্রামে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো উপজেলা থেকেই রোগী রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং শারীরিক অবস্থা বুঝে চিকিৎসা নিয়ে চলে যাচ্ছেন। এছাড়াও পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। মানুষকে সচেতন করার জন্য মাইকিং ও করা হচ্ছে। 

জানা গেছে, সাধারণত বর্ষা শুরুর আগে, বর্ষার সময় এবং বর্ষার পরে জুন মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা যায়। রাঙ্গামাটি জেলার ৪টি উপজেলা ভারত সীমান্তবর্তী ও যোগাযোগ দুগর্মতার কারণে স্থানীয়দের চিকিৎসা নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। সরকার এ বছর জেলার ১০ উপজেলাতে এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের সহযোগীতায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মশারি বিতরণ করেছে। 

এদিকে, রাঙ্গামাটিতে ২০২২ সালে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ছিল ৩২১৯ জন। তবে ২০২৩ সালে ম্যালেরিয়া রোগে সংখ্যা ২০২২ সালের চেয়ে অধিক হতে পারে বলে ধারণা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। 

রাঙ্গাামাটি জেলা সিভিন সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত শেষ ৬ মাসে রাঙ্গামাটিতে ম্যালেরিয়া রোগী আক্রান্তের সংখ্যা ১৫৩২ জন। এর মধ্যে জুন মাসে ছিল ৬৬৭ জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী। এরমধ্যে শুধু জুন মাসে শীর্ষে থাকা জুরাছড়িতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩০২ জন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাঘাইছড়িতে ১৩৩ জন, এরপর বরকলে ১২৩ ও বিলাইছড়ি ১০৯। জেলার অন্য উপজেলাগুলোতে তুলনামূলক কম আক্রান্ত রয়েছে।

ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ১৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছেন। এ পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২৯ জন। 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনন্যা চাকমা জানান, জুন থেকে জুলাই মাসে দুর্গম পাহাড়ে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব অক্টোবর মাস পর্যন্ত পাহাড়ে কম-বেশি থাকতে পারে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও রোগটি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি হয়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ রয়েছে। 

রাঙ্গামাটি সিভিল সার্জন ডা. নিহার রঞ্জন নন্দী জানান, বর্ষাকালে ম্যালেরিয়া প্রকোপ থাকবেই। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। তবে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। নিজেদের আশপাশের জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের টিম কাজ করছে। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র মজুদ রয়েছে। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত এলাকাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। গত এক বছরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় কারো মৃত্যু হয়নি বলে তিনি জানান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!