প্রতিদিন ভোর থেকে এ হাটে ভ্যান ও ভটভটিসহ বিভিন্ন যানবাহনে ক্যারেটভর্তি করে আম বিক্রি করতে আসেন বাগানের মালিকরা। যেখানে ঢাকা, যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়িরা এ হাটে আসেন আম কিনতে। চাষিদের কাছ থেকে দরদাম করে আম কিনছেন ব্যবসায়ীরা।
বরেন্দ্র এলাকা হিসেবে পরিচিত জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর, পত্মীতলা ও ধামইরহাট উপজেলার আংশিক এলাকা। এক সময় এসব এলাকায় বৃষ্টি নির্ভর একটিমাত্র ফসল আমন ধান হতো। তবে এখন ধান ছেড়ে মানুষ আম বাগানে ঝুঁকছেন। আম লাভজনক হওয়ায় শিক্ষিত যুবকরা আম চাষ করছেন।
.png)
বরেন্দ্র এলাকার এঁটেল মাটির আম অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট হওয়ায় এ জেলার আমের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। বর্তমানে বাজারে আম্রপালি, বারি-৪, ফজলি ও ব্যানানা ম্যাংগো জাতের আম বাজারে উঠেছে। আম্রপালি প্রকারভেদে ২২০০-৩২০০ টাকা, বারি-৪ জাতের ২৭০০-৩১০০ টাকা, ফজলি ১৮০০-২০০০ টাকা এবং ব্যানানা ম্যাংগো ৬ হাজার টাকা মণ হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার গুডাউনপাড়ার সৌরভ আলী বলেন, সাপাহার বরেন্দ্র অঞ্চলের এঁটেল মাটি হওয়ায় আমের অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট। সেরা আমের মধ্যে আম্রপালি জাতের আম। এ আমের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। এ আমের দাম ভালো পাওয়ায় বাগানও বেশি। ভবিষ্যতে এ আমের চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে।
আমচাষি আলামিন হোসাইন বলেন, প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে আম বাগান রয়েছে। যার অধিকাংশ আম্রপালি। এ উপজেলার আম অত্যান্ত সুমিষ্ট ও সুস্বাদু। এ বছর অনাবৃষ্টি থাকায় আমাদের পরিশ্রম করতে হয়েছে বেশি। এতে আমের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তবে দাম ভালো পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে।
সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কার্তিক সাহা বলেন, সাপাহারের আম দেশজুড়ে খ্যাত। সরকার যদি সংরক্ষণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে ভোক্তাপর্যায়ে সারা বছর আম সরবরাহ করা সম্ভব হতো। এছাড়া যদি রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা করা যেত তাহলে সারা দেশের সঙ্গে আম বাণিজ্যে অনেক সুবিধা হতো। স্বল্প খরচে আম পরিবহণ করা সুবিধা হতো।
নওগাঁর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ জেলায় ব্যাপক পরিমাণ আম চাষ হয়েছে। উৎপাদনের পাশাপাশি দেশে বিদেশে ব্রান্ডিং করার ক্ষেত্রে এই জেলা এগিয়ে আছে। এছাড়াও অনেক বেকার যুবক মৌসুমি আম ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তাদের বেকারত্ব দূর করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি চাষিদের কাছে থেকে আম সংগ্রহ করে তারা হাটে বিক্রি করে ভাগ্য ফেরাচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আম বাগান গড়ে উঠেছে। প্রতি হেক্টরে ১২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন হিসেবে প্রায় ৩ লাখ ৭৮ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।