ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পা ধরে কেঁদেও পরকীয়ায় আসক্ত মাকে ফেরাতে পারল না ছেলে

পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৩৫, ১২ জুলাই ২০২৩
পা ধরে কেঁদেও পরকীয়ায় আসক্ত মাকে ফেরাতে পারল না ছেলে
ফাইল ফটো

১৮ বছরের সংসার রুবেল ও মিতার। সংসারে রয়েছে ১৬ বছরের ছেলে। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে ৬ বছর আগে পোশাক কারখানায় কাজ নেন মিতা। চাকরির দুই বছর পার হতেই সহকর্মীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন মিতা। এ নিয়ে কলহের সৃষ্টি হলে পারিবারিক বৈঠকে তা নিষ্পত্তি হয়। আর পরকীয়া সম্পর্কে জড়াবেন না বলে ওয়াদা করেন। কিন্তু কথা রাখেননি মিতা। একপর্যায়ে প্রায় তিন লক্ষাধিক টাকা নিয়ে উধাও হন তিনি। তাকে না পেরে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করলে পুলিশ মিতাকে থানায় নিয়ে আসে। সেখানে সন্তানের চোখের পানি ও আবেগাপ্লুত আকুতি মন গলাতে পারেনি মায়ের। অবশেষে পা ধরে কেঁদেও মাকে পরকীয়া থেকে ফেরাতে পারেনি ছেলে। এমন স্পর্শকাতর ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ঈশ্বরদী থানায়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৮ বছর আগে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের রুবেল প্রামানিকের সঙ্গে মিতা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে রয়েছে ১৬ বছরের ছেলে মিতুল। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ভালোই কাটছিল রুবেল-মিতা দম্পতির সংসার।

এরই মধ্যে ৬ বছর আগে সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে মিতা ঈশ্বরদী ইপিজেডে তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। ব্যবসায়ী রুবেল ও মিতার আয়ের টাকা সংসারের খরচ শেষে সঞ্চয় করার সিদ্ধান্ত নেন। খোলা হয় মিতার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। সেখানে প্রতি মাসেই দুজনই আয়ের টাকা জমা রাখতেন। কিন্তু চাকরির দুই বছর পার হতেই রুবেল-মিতার সংসারে অশান্তি শুরু হয়। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিপ্লব নামে এক সহকর্মীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন মিতা। এ নিয়ে পরিবারে কলহের সৃষ্টি হয়। পারিবারিক বৈঠকে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়।  আর পরকীয়া সম্পর্কে জড়াবেন না বলে ওয়াদাও করেন মিতা। কিন্তু কথা রাখেননি মিতা। গোপনে চালিয়ে যান পরকীয়া সম্পর্ক।

Advertisement

এদিকে ২৪ জুন বাড়িতে থাকা রুবেলের ব্যবসার প্রায় লক্ষাধিক টাকা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করা ২ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হন মিতা। দুদিন তাকে না পেয়ে ঈশ্বরদী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন রুবেল। ১১ জুলাই পুলিশ ইপিজেড এলাকা থেকে মিতাকে থানায় নিয়ে আসে। খবর পেয়ে থানায় আসেন রুবেল প্রামানিক ও তার ছেলে মিতুল। রুবেল প্রামানিক মিতাকে বলেন, আমাদের একমাত্র সন্তানের কথা ভেবে তুমি সংসারে ফিরে এসো।

কিন্তু মিতা সাফ জানিয়ে দেন তিনি তাকে তালাক দিয়েছেন। সংসারে আর ফেরার সুযোগ নেই। রুবেল মিতাকে ফেরাতে ব্যর্থ হলে ছেলে মিতুল প্রামানিক মায়ের পা ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং আকুতি-মিনতি করে বলে, মা তুমি বাড়ি চলো। তোমাকে চাকরি করতে হবে না। আমরা তো ভালোই আছি। কিন্তু ছেলের সে আকুতি কর্ণপাত করেননি মিতা। তিনি সাফ বলে দেন, ওই সংসারে আর ফিরবেন না। ফলে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বাবাকে নিয়ে থানা থেকে বের হয়ে যায় ছেলে। 

রুবেল প্রামানিক বলেন, সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে মিতাকে আবারো বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সে বলছে আমাকে তালাক দিয়েছে। ছেলে খুব চেষ্টা করলো কিন্তু কিছুতেই তার মায়ের মন গলাতে পারলো না। তবে রুবেল দাবি করেন, মিতা তার ব্যবসার এক লাখ টাকা ও ব্যাংকে রাখা দুই লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

মিতা বলেন, রুবেল প্রামানিককে তালাক দিয়েছি। তার সংসারে আর কখনো ফিরবো না। এখনো কাউকে বিয়ে করিনি।

জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সোহেল বলেন, রুবেল ও মিতা যেন আবারো সংসার করতে পারেন সেজন্য রুবেলের ছেলেসহ তার স্বজনরা সমঝোতার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এতে মিতা রাজি না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। 

ঈশ্বরদী থানার ওসি অরবিন্দ সরকার বলেন, রুবেল প্রামানিক থানায় মিতার নিখোঁজের জিডি করেছিলেন। মিতাকে থানায় আনার পর রুবেল প্রামানিক ও তার ছেলে মিতুল প্রামানিক এসেছিলেন। তারা মিতাকে নিজ বাড়িতে নিতে আকুতি করেছিলেন, কিন্তু রাজি হননি মিতা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!