ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রেমিকাকে হত্যা: নিজের হাতে লেখা চিরকুটেই ধরা প্রেমিক 

চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৫৭, ১০ জুলাই ২০২৩
প্রেমিকাকে হত্যা: নিজের হাতে লেখা চিরকুটেই ধরা প্রেমিক 
গ্রেফতারকৃত হান্নান

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন পলি ও হান্নান মুন্সি। এর মধ্যে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন পলি। বিষয়টি জেনে যায় হান্নান মুন্সির পরিবার। এতেই শুরু হয় বিরোধ। ঈদের ছুটিতে পলিকে নিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তার পরিচিত একজনের বাড়িতে ওঠেন হান্নান। সেখানে পলিকে রেখে ফিরে যান কর্মস্থলে। এমন পরিস্থিতিতে দাউদকান্দির ওই বাড়িতে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা পলির গর্ভপাত হয়। গত ২ জুলাই মৃত সন্তানসহ পলিকে নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেয়। ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন স্থান। ওই রাতেই চাঁদপুরের মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি এলাকার একটি নির্জনস্থানে নিয়ে এসে পলিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন হান্নান। জামাকাপড় ফেলে দেন ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটার দূরের একটি পুকুরে। এত কিছু করে হয়নি শেষ রক্ষা। লাশের পাশে থাকা একটি চিরকুট ঘুরিয়ে দেয় ঘটনার মোড়।

ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের মতলবে। এদিকে অজ্ঞাতপরিচয় পুলির লাশ উদ্ধারের এক সপ্তাহের মাথায় হত্যাকারীকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই।
 
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের বন্দর থানার ইপিজেড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতেন তারা। এরই মধ্যে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন পলি। বিষয়টি জেনে যান হান্নান মুন্সির পরিবার। এতেই শুরু হয় বিরোধ। ফলে হান্নান ঈদের ছুটিতে পলিকে নিয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে তার পরিচিত একজনের বাড়িতে ওঠেন। সেখানে পলিকে রেখে ফিরে যান চট্টগ্রামের কর্মস্থলে।

Advertisement

এরপর দাউদকান্দির ওই বাড়িতে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা পলির গর্ভপাত হয়। তবে সেই বাড়ির সবাই জানতো হান্নানের স্ত্রী পলি। এরপর হান্নান ফিরে আসে দাউদকান্দিতে। গত ২ জুলাই মৃত সন্তানসহ পলিকে নিয়ে একটি প্রাইভেটকারে তুলে নেন। তারপর বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়ান। ওই রাতেই চাঁদপুরের মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি এলাকার একটি নির্জনস্থানে নিয়ে এসে অসুস্থ পলিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। সঙ্গে থাকা জামা ঘটনাস্থলের কয়েক কিলোমিটার দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন। তবে লাশের পাশে থাকা একটি চিরকুট  ঘুরিয়ে দেয় পুরো ঘটনার মোড়।

পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিয়াদ মঈনুদ্দিন জানান, হান্নান মুন্সি তার পরিবারের ওপর প্রতিশোধ নিতে পলিকে হত্যা করে তাদের ওপর দায় চাপায়। এমন তথ্য মেলে ওই চিরকুটে। কিন্তু তা ছিল ঘাতক হান্নানেরই হাতে লেখা। 

তিনি আরো জানান, অভিযুক্ত হত্যার দায় স্বীকার করায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।

এদিকে, থানা পুলিশ প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় এ লাশের সন্ধান পেলেও পরে মামলার তদন্ত দেওয়া হয় পিবিআইকে। পুরো বিষয় তদন্ত করতে গিয়ে ধরা পড়ে পলি হত্যার মূল আসামি বাসচালক হান্নান। শনিবার (৮ জুলাই) রাতে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে রোববার (৯ জুলাই) চাঁদপুরে মতলব উত্তরের ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে নিহত পলির ব্যবহৃত জামাকাপড় উদ্ধার করে পিবিআই। 

এ অভিযানে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে আরো অংশ নেন পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক শামীম আহমেদ, উপ-পরিদর্শক আমির মীর, উপ-পরিদর্শক শরীফ উল্লাহ।

রোববার দুপুরে প্রেসব্রিফিংয়ে চাঁদপুরে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ জানান, মূলত হান্নান মুন্সি পলি আক্তারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লে তা মেনে দিতে পারেননি তার স্ত্রী ও পরিবার। তাই তাদের ফাঁসাতে অন্তঃসত্ত্বা পলি আক্তারকে হত্যার পরিকল্পনা নেয়। এরই জেরে হত্যা করে নিজ হাতে চিরকুট লিখে লাশের পাশে রেখে যান হান্নান। এসব তথ্য পিবিআইয়ের কাছে স্বীকার করেছে হান্নান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!