ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ধুমধামে প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীর বিয়ে 

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:২১, ৯ জুলাই ২০২৩
ধুমধামে প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীর বিয়ে 
ছবি: সংগৃহীত

শুক্রবার (৭ জুলাই) বিকেল। গাড়িতে চড়ে কনের বাড়িতে হাজির ১০ বরযাত্রী। বিয়ের আয়োজনে নেই কোনো কমতি। এত কিছু আয়োজন করা হয়েছে প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীর বিয়েকে কেন্দ্র করে। এরপর ৫০ হাজার টাকা কাবিনে পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন কাঞ্চন সরদার। মহাধুমধাম আয়োজনে দুই বুদ্ধি প্রতিবন্ধীর বিয়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী। রোববার তাদের বৌভাত। ঘটনাটি ঘটেছে রাজবাড়ীতে। 

বর পাংশা পৌরসভার সত্যজিৎপুর গ্রামের মৃত কাদের সরদারের ছেলে কাঞ্চন সরদার ও কনে কালুখালী উপজেলার মাঝবাড়ী ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের দিনমজুর মো. হিলা শেখের মেয়ে পূর্ণিমা খাতুন।

জানা যায়, কাঞ্চন সরদার জন্ম থেকেই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে কাঞ্চন সবার বড়। বাবা মারা যাওয়ার পর কাঞ্চনের মা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যান; সঙ্গে নিয়ে যান কাঞ্চনের এক বোনকে। সংসারে বর্তমানে দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে কিছুদিন আগে কাঞ্চনের ছোট ভাই বিয়ে করেন। কাঞ্চন বড় হলেও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার বিয়ে হচ্ছিল না।

Advertisement

অন্যদিকে, মো. হিলা শেখের চার মেয়ের মধ্যে পূর্ণিমা খাতুন তৃতীয়। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তারও বিয়ে হচ্ছিল না। কাঞ্চনের বিয়ের জন্য মেয়ে না পাওয়ায় ঘটকালি শুরু করেন তার প্রতিবেশী বাচ্চু শেখ। তিনি খুঁজে বের করেন পূর্ণিমা খাতুনকে। এরপর বাচ্চু মেয়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ের দিন ধার্য করেন। পরে বিষয়টি জানানো হয় কাঞ্চনের এলাকার মানুষকে। এরপর এলাকাবাসী বিয়ের সমস্ত আয়োজন করেন। শুক্রবার (৭ জুলাই) বিকেলে গাড়িতে চড়ে কনের বাড়িতে ১০ বরযাত্রী নিয়ে যান কাঞ্চন। ৫০ হাজার টাকা কাবিনে পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন তিনি।

কাঞ্চনের প্রতিবেশী পাংশা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, প্রতিবন্ধী কাঞ্চনের জীবিকা চলে ভিক্ষা করে। বিয়ে করার মতো কোনো অর্থ তার নেই। আমরা যখন জানতে পারি যে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে, তখন এলাকাবাসী মিলে চাঁদা তুলে বিয়ের প্রস্তুতি নেয়। বিয়ের দিন ১০ বরযাত্রী নিয়ে আমরা কনের বাড়িতে যাই। কনের বাবার সামর্থ্য না থাকায় বিয়ের খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সমস্ত খরচ আমরাই বহন করি।

ঘটক বাচ্চু শেখ বলেন, কাঞ্চন যখন বিয়ের জন্য মেয়ে খুঁজে পাচ্ছিল না বা কেউ তার সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে চাচ্ছিল না তখন আমি জানতে পারি ওই গ্রামে পূর্ণিমা নামে একটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে রয়েছে। পরে আমি তার বাবার সঙ্গে আলাপ করে বিয়ের দিন ধার্য করি এবং গ্রামের মানুষের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে চাঁদা তুলে বিয়ের আয়োজন করা হয়। পরে শুক্রবার শরীয়ত মোতাবেক তাদের বিয়ে সম্পন্ন করে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এখন তারা ভালোই আছে।

তিনি আরো বলেন, রোববার কাঞ্চনের বাড়িতে বৌভাতের আয়োজন করা হয়েছে। 

পাংশা পৌরসভার মেয়র ওয়াজেদ আলী মাস্টার বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। রোববার তাদের বৌভাত। ঘটনাটি সত্যি প্রশংসনীয়।   

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!