জেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে, থোকায় থোকায় খেজুর গাছে ঝুলছে পাকা-আধা পাকা খেজুর। বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশেই বেশি খেজুর গাছ। স্থানীয় ছেলে-মেয়েরা গাছ থেকে খেজুর পেড়ে খেতে শুরু করেছে। তবে এখনো পুরোপুরি খাওয়ার উপযোগী হয়নি খেজুরগুলো। কিছু দিন পর পাকলে খাওয়ার উপযোগী হবে। অনেকেই এখন পাকা খেজুর বাজারে বিক্রি করেন।
খেজুর গাছ এক ধরনের তাল জাতীয় শাখাবিহীন বৃক্ষ। এর বৈজ্ঞানিক নাম ফিনিক্স ড্যাকটিলিফেরা। মানব সভ্যতার ইতিহাসে সুমিষ্ট ফল হিসেবে এর গ্রহণযোগ্যতা পাওয়া যায়। অনেক আগে থেকেই এর চাষাবাদ হয়ে আসছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশের আবহাওয়া খেজুর চাষের জন্য অনেকটাই উপযোগী।
.png)
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকা বেলগাছি গ্রামের বাসিন্দা কৃষক বশির আহাম্মেদ জানান, খেজুর গাছ যে কেবল ফল দেয় তা কিন্তু নয়। শীত মৌসুমে খেজুর গাছ থেকে রস পাওয়া যায়, যা দিয়ে গুড় তৈরি হয়। খেজুরের রসও সবাই পছন্দ করেন। খেজুরের রস ও গুড়ের তৈরি পিঠা তো বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। খেজুর গাছের পাতা দিয়ে পাটি এবং কাঁচা ঘরের বেড়া তৈরি করা হয়। এছাড়া খেজুর পাতা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

দামুড়হুদা উপজেলার দেউলী গ্রামের খেজুর গাছি আব্দুর রশিদ মোল্লা বলেন, খেজুরের রস সংগ্রহ এবং খেজুর উৎপাদন গ্রামবাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্য। এক সময় এই গ্রামে অনেক খেজুর গাছ ছিল। বাল্য কালের কথা মনে পড়ে, সকাল হলেই খেজুর সংগ্রহে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের মধ্যে বেশ আনন্দমুখর আয়োজন দেখা যেত। খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় এখন আর সে দৃশ্য চোখে পড়ে না। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে রূপসী বাংলার সেই ঐতিহ্য। সবার উদ্যোগে নতুন করে খেজুর গাছ রোপণ করা হলে এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখা যাবে এবং অর্থনৈতিক দিক থেকেও দেশ লাভবান হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সুভাস চন্দ্র জানান, জেলার চার উপজেলা- জীবননগর, দামুড়হুদা, সদর এবং আলমডাঙ্গায় দুই লাখ ৬৬ হাজারের মতো খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই সদর উপজেলায়। নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত চলে গুড়ের মৌসুম। এই মৌসুমে গড়ে আড়াই হাজার মেট্রিক টন গুড় উৎপাদিত হয়েছে।
এখন চলছে গ্রীষ্মকাল। খেজুর গাছের দ্বিতীয় মৌসুমে গাছে গাছে দোল খাচ্ছে পাকা খেজুর। গাছে ঝুলতে থাকা এই খেজুর গ্রাম বাংলার অপরূপ সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।