ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সিসিটিভিতে ধরা পড়লো নারী শিক্ষকের সঙ্গে আপত্তিকর দৃশ্য, লাপাত্তা প্রধান শিক্ষক

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৩৭, ৫ জুলাই ২০২৩
সিসিটিভিতে ধরা পড়লো নারী শিক্ষকের সঙ্গে আপত্তিকর দৃশ্য, লাপাত্তা প্রধান শিক্ষক
বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষিকার আপত্তিকর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী ও ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবকের পক্ষে শেখর আহমেদ নামে এক ব্যক্তি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলার বেগুনজোয়ার উচ্চ বিদ্যালয় একটি ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। এ বিদ্যালয়টি তিনটি ইউনিয়নের শেষ সীমানায় ছোট যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত। এজন্য বিদ্যালয়ে তিনটি ইউনিয়ন থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়। তবে গত কয়েক বছর নারী আসক্ত, অবৈধ ক্ষমতার বিস্তারকারী এবং অর্থলোভী প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামিম আহমেদ (মিঠু) বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছেন। তিনি বেশ কয়েকবার বিচারের মুখোমুখি হয়েছিলেন। কিন্তু কিছু অদৃশ্য শক্তির কারণে ছাড় পেয়ে বিদ্যালয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

সম্প্রতি এক সহকারী শিক্ষিকার সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজ অফিস রুমে অনৈতিক কার্যকলাপ করেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হয়েছে। এ ঘটনার পর ম্যানেজিং কমিটির নিকট অভিযোগ দেওয়া হয়।

Advertisement

অভিযোগকারী শেখর আহমেদ বলেন, ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামিম আহমেদ (মিঠু) এর সঙ্গে সহকারী শিক্ষিকার অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যকলাপের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করছি।

দুই বছর আগে ভগবানপুর গ্রামের এক ছাত্রীকে শিক্ষা সফরে নিয়ে গিয়ে এরকম ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। গতবছর বসন্তপুর গ্রামের এক ছাত্রীর সঙ্গে একই ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় মেয়ের পরিবার মামলা করতে চাইলে ১০ লাখ টাকা দিয়ে তা বন্ধ করেন। এমন বেশ কয়েকটি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রধান শিক্ষক মিঠু।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামিম আহমেদ (মিঠু) তার অফিস রুমের চেয়ারে বসা ছিলেন। পাশের চেয়ারে বসেছিলেন নারী সহকারী শিক্ষক। এর কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষক মিঠু চেয়ার থেকে উঠে এসে তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। আপত্তিকর এমন বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

কয়েক বছর আগে ঐ নারী সহকারী শিক্ষক স্কুলে যোগদান করেন। এরপর থেকে তার প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে। ভিডিওর বিষয়ে ঐ নারী সহকারী শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ধরেননি। একপর্যায়ে তিনি ফোনটি বন্ধ করে দেন। 

প্রধান শিক্ষক আবু সাদাত শামীম আহমেদকে তার গ্রামের বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আ স ম শফি মাহমুদ জানান, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে নিয়ে ভিডিওর বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা দুজনই ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করছেন। তারপরও আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বদলগাছীর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াশিউর রহমান বলেন, স্কুলের শিক্ষকদের ভিডিওর বিষয়ে অবগত আছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলপনা ইয়াসমিন বলেন, লিখিত কোনো অভিযোগ এখনো পাইনি। তবে স্কুলের শিক্ষকদের ভিডিওর বিষয়ে অবগত আছি। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নিয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!