পরে স্থানীয় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে সাপের বাচ্চাটি হস্তান্তর করা হয়। অজগরের বাচ্চাটি সুস্থ থাকায় উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের সহায়তায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের গহীন বনে অবমুক্ত করেন স্বেচ্ছাসেবকরা।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরে নদীর পাড়ের একটি দোকানে কাজ করছিলেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। এ সময় দোকানঘরের পাশের একটি কাঠের খুঁটির সঙ্গে কিছু একটা পেঁচিয়ে থাকতে দেখেন তিনি। কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করলে সাপের বাচ্চাটি নড়েচড়ে ওঠে। পরে স্থানীয় কয়েকজনকে ডেকে এনে সাপের বাচ্চাটি বস্তাবন্দি করে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে তুলে দেন।
.png)
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে গত কয়েকদিন পানি বেড়েছে নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীতে। ঢলের পানির তীব্র স্রোতে উজান থেকে ভেসে এসেছে মরা গাছপালাসহ পাহাড়ি ছোট-বড় লাকড়ি। যদিও এখন পানি কমেছে স্বাভাবিক হয়েছে নদীর পানি প্রবাহ। স্থানীয়দের ধারণা- ঢলে পানির সঙ্গে কাঠ লাকড়ির সঙ্গে ভেসে এসেছে অজগরের বাচ্চাটি।
পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর সভাপতি রিফাত আহমেদ রাসেল জানান, এটি একটি বার্মিজ পাইথন প্রজাতির অজগর। বাচ্চাটি এখনো খুব ছোট। লম্বায় আড়াই ফুটের মতো হবে। মূলত এ প্রজাতির সাপ পানির আশপাশে বসবাস করলেও তীব্র স্রোতে নিজেদের ঠিক রাখতে পারে না। তাই স্রোতে এরা ভেসে বহুদূর পর্যন্ত চলে আসে।
তিনি আরো জানান, প্রতিবছরই পাহাড়ি ঢলে উজান থেকে ছোট বড় বিভিন্ন প্রাণী সোমেশ্বরী নদীতে ভেসে আসে। ভারী বর্ষণের সময় পানির স্রোতে ছোট বড় গাছপালার সঙ্গে সাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ভেসে আছে। গত বছরের পাহাড়ির ঢলে দেশে আসা ছোট বড় অন্তত চারটি অজগর সাপ উদ্ধারের পর বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তারা এখন পর্যন্ত ১৩টি অজগরসহ দুটি বিষধর গ্রিন পিট ভাইপার উদ্ধার করেছেন বলেও জানান।
দুর্গাপুরের রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী জানান, বন্যপ্রাণী বনেরই একটি অংশ। প্রায় সময় বন জঙ্গল থেকে বিভিন্ন প্রাণী পানিতে ভেসে লোকালয়ে চলে আসে। এ প্রাণীগুলোকে উদ্ধার করে আবারো বনে অবমুক্ত করছেন স্থানীয় পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অফ সুসং এর স্বেচ্ছাসেবকরা। তাদের কাজে বন বিভাগও সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাজিব উল আহসান জানান, দুর্গাপুর উপজেলার দুইটি ইউনিয়ন পাহাড়ি বনভূমি দ্বারা বিস্তৃত। তাই প্রায় সময় বন থেকে বিভিন্ন প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে। তবে মানুষের মাঝে এখন সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। আগের মতো তারা প্রাণীদের হত্যা করে না। বরং প্রাণীদের রক্ষা করে। এ প্রশাসনসহ স্বেচ্ছাসেবকরাও বেশ তৎপর।