চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৪৮ জনের। মৃত্যু হয়েছে একজনের। বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১২৬ জন।
এ বছর এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ৬৬১ জনের। তাদের মধ্যে ৩৩৮ জন পুরুষ, ১৬৯ জন নারী এবং ১৫৪ জন শিশু। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১২ জন। শনাক্ত ৬১৩ জনের মধ্যে ৪৬১ জন নগরের ও বাকি ২০০ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৭৭, ফেব্রুয়ারিতে ২২, মার্চে ১২, এপ্রিলে ১৮, মে মাসে ৫৩, জুনে ২৮২ এবং জুলাইয়ে (৫ তারিখ পর্যন্ত) ১৯৭ জনের শনাক্ত হয়। এছাড়া ১২ জনের মধ্যে তিনজন জানুয়ারিতে, ছয়জন জুনে এবং তিনজন জুলাইয়ে (৫ তারিখ পর্যন্ত) মারা যান।
.png)
বিআইটিআইডি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মামুনুর রশিদ বলেন, জুন মাস থেকেই রোগী বেড়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত যেসব ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাদের কারো অবস্থা সংকটাপন্ন হয়নি। যেটি উল্লেখ করতে হয়- এবার ডেঙ্গু আক্রান্তদের রক্তে প্লাটিলেট কম পাওয়া যাচ্ছে। একইসঙ্গে তাদের বেশিরভাগের রক্তচাপও কম।
তিনি আরো বলেন, কোনো ধরনের ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রভাবে এমনটি হচ্ছে তা নিশ্চিত হতে আমরা নমুনা সংগ্রহ করছি। নমুনাগুলো ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হবে। তারা পরীক্ষার জন্য দেশের বাইরে পাঠাবেন। এরপরই ডেঙ্গুর ধরন নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না। একইসঙ্গে এটি প্রতিরোধে ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের সবাইকে সচেতন হতে হবে- যোগ করেন এ চিকিৎসক।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। বছরের শুরুর দিকে চেয়ে এখন রোগী বেশি। তবে যারা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তাদের কারো অবস্থা গুরুতর নয়। এ সময় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ে। তাই যেসব এলাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে, সেসব এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে।