ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

জসিমকে খুন করতে ৪০ হাজার চুক্তি করেন পরকীয়া প্রেমিকা

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৯:০৯, ১ জুলাই ২০২৩
জসিমকে খুন করতে ৪০ হাজার চুক্তি করেন পরকীয়া প্রেমিকা
গ্রেফতারকৃতরা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মোটরসাইকেল থামিয়ে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে জসিম উদ্দিনকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। পুলিশ জানায়, প্রেমিক জসিমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন পরকীয়া প্রেমিকা। আর সেজন্য প্রেমিকা ৪০ হাজার টাকায় চুক্তি করেছিলো তার বোনের ছেলে ইব্রাহিমের সঙ্গে। এরপর ইব্রাহিম তাদের বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে জসিমকে খুন করেন। 

শুক্রবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় যশোর ডিবি পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলায়। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

নিহত জসিম উদ্দিন মনিরামপুরের আখোকা গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মোড়লের ছেলে। গ্রেফতারকৃত হলেন- বারান্দী মোল্লাপাড়ার লাল মিয়ার ছেলে নাসির হোসেন ও বেজপাড়া আনছার ক্যাম্প এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে জাহিদ ওরফে ডুবার।

Advertisement

যশোর ডিবি পুলিশের ওসি রুপণ কুমার সরকার জানান, গত ২৬ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে মনিহার কোল্ড স্টোর মোড়ে একটি মোটরসাইকেলে তিন যুবক এসে জসিমের শরীরে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। এ সময় তারা জসিমের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যান। স্থানীয়রা জসিম উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত ২৬ জুন যশোর শহরের ব্যাটারি পট্টিতে আসেন জসিম। এরপর মোবাইলে অজ্ঞাত এক মেয়েকে সেখানে ডেকে এনে ফল কিনে মণিরামপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে নীলগঞ্জ তাঁতিপাড়ায় পৌঁছালে আসামিরা জসিমের মোটরসাইকেল থামিয়ে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান। 

এ সময় তারা জসিমের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যান। স্থানীয়রা জসিম উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন জসিমের বাবা। এরপর থেকেই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে পুলিশ। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত ১টার পর বারান্দি মোল্লাপাড়া কবরস্থান এলাকা থেকে নাসির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। 

তার দেওয়া তথ্যে রাত আড়াইটায় বেজপাড়া তালতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহিদ ওরফে ডুবারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দুটি চাকু ও ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জড়িত আরেক পলাতক আসামি ইব্রাহিম ও তার খালা আনোয়ারা বেগম আনুর জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। আনোয়ারা আনুর সঙ্গে জসিমের পরকীয়া প্রেম ছিল। ওই আনুর নির্দেশে জসিমকে খুন করা হয়। আর সেজন্য ৪০ হাজার টাকায়  তার বোনের ছেলে ইব্রাহিমের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন আনু। এরপর ইব্রাহিম তার বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে জসিমকে খুন করেন। 

তিনি বলেন,পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে কাজ করছে পুলিশ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!