খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলায় অন্তত শতাধিক স্থানে পশুর হাট বসেছে। প্রখর রোদ ও বৃষ্টির মধ্যেই চলছে বেচাকেনা। বাজারে গরুর সরবরাহ বেশি ও ক্রেতার সংখ্যাও ভালো সংখ্যক থাকায় সরগরম হয়ে উঠেছে স্থানীয় হাটগুলো।
সরেজমিন দেখা যায়, জেলা সদরের চরমুগরিয়া, মস্তফাপুর, হাউসদী, রাজারহাট, নতুন রাজারহাট, মাদ্রা, মঠেরবাজার, খোয়াজপুর, কবিরাজপুর, রাজৈর, কালকিনি, ফাসিয়াতলা, রাজারহাট, সূর্যনগর, কাদিরপুর, মাথা ভাঙা, আচমত আলী ব্রিজের নিচে, ঝাউদীতে পশুর হাট বসেছে।
.png)
এছাড়া কালকিনি উপজেলার খাসেরহাট, ভূরঘাটা, ডাসার, খালেকেরহাট; শিবচর উপজেলার উৎরাইল, নিলখী, কাঠালবাড়ী, দাদা ভাই উপ-শহর, দত্তপাড়া; রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট, হোসেনপুর, মাদেন্দ্রী, পাইকপাড়া, আমগ্রামসহ জেলার ছোট-বড় মিলে প্রায় শতাধিক স্থানে পশুর হাট বসেছে। এর মধ্যে কিছু হাটে সারা বছর পশু বিক্রি হয়। কিছু হাট অস্থায়ীভাবে বসেছে।
জেলা সদরের মাদ্রা গ্রামের ছান্টু হাওলাদার বলেন, গেল দুই-তিনের হাটের চেয়ে আজ নতুন রাজারহাটে গরুর বাজার ঊর্ধ্বমুখী। এতে খামারি ও বিক্রেতাদের মুখে হাসি ফুটেছে।
মাদারীপুর পৌর শহরের শুভ বলেন, ভাগাভাগি করে একটি গরু ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি। শেষ মুহূর্তে গরুর সরবরাহও যেমন বেশি, তেমনি দামও বেশি।
এদিকে খোয়াজপুর টেকেরহাটে গিয়ে দেখা যায়, দেশি গরুতে বাজার সয়লাব। বিক্রেতারা বড় গরুর দাম হাঁকছেন এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া সর্বনিম্ন ৭০-৮০ হাজার টাকায় মিলছে গরু। সময় গড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যাও। বেচাকেনাও হচ্ছে বেশ।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ বছর ঈদে জেলায় ৬৮ হাজার ৫২০টি গরু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খামারি রয়েছেন ১৯ হাজার ৫২০ জন। ছাগলের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৫টি।
গত বছর পশুর সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার। এ বছর চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত গরু রয়েছে ৬ হাজার ২৫০টি। কোরবানির জন্য ক্রেতারা যাতে সুস্থ-সবল পশু পেতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আগে থেকেই খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুর পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, গরুর হাটগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রকার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। এ হাটগুলোতে অনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ড না হয় এদিকে প্রশাসন সব বিষয়ে সজাগ রয়েছে।