ডিজিটাল হাটে অনেকেই অগ্রিম পেমেন্টে পশু বুকিং করে রাখছেন, যা ঈদের আগের দিন বাসায় পৌঁছে দেবেন খামারিরা।
অনলাইন পশুর হাটে ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় আছেন রাজশাহীর প্রতিষ্ঠিত খামারগুলো। খামারিদের অনলাইন পেজে পশু দেখে অনলাইনে ভিডিও কলে কথা বলেই পশু কেনাকাটা হচ্ছে। আর প্রতিষ্ঠিত খামারগুলোতে গতানুগতির পদ্ধতির চেয়ে অনলাইনেই বেশি বেচাবিক্রি হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
.png)
রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিয়ান রনহাট পশ্চিমপাড়া শাহী এগ্রো অর্গানিক ফার্মের মালিক তৈহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, তিনি ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন গ্রুপে নিজের খামারের গরুগুলোকে তুলে ধরেছেন। এবার তার খামারে মোট ৪০টার মতো কুরবানিযোগ্য ষাঁড় ছিলো। এরমধ্যে ২৫টির মতো ষাঁড় বিক্রি করেছেন অনলাইনে। রোববার ৮টি ডেলিভারি দিয়েছেন। ক্রেতার বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তার। আর ৮টি গরু নিয়ে রোববার রাজশাহী সিটি হাটে গিয়েছিলেন। সেখানে বড় মাপের গরু তিনি বিক্রি করতে পারেননি। আশা করছেন এই দুইদিনের মধ্যে সবগুলো গরু অনলাইনে বিক্রি করতে পারবেন।
তৈহিদুল ইসলাম আরও জানান, অনলাইনে দেখার পাশাপাশি তিনি আবাসিক সুবিধাও রেখেছেন। অনেকে অনলাইনে দেখার পর খামারে এসে দুই থেকে একটি পশু বাছাই করেও নিয়ে গেছেন। আর তারা অর্গানিক বিষয়টাকে ব্র্যান্ডিং করছেন।
সরদার এগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী আরাফাত রুবেল জানান, তিনি এবার কোরবানিকে সামনে রেখে ৩২টা ষাঁড় তৈরি করেছিলেন। আর এগুলো গত এক মাস আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। আসলে তিনি গত কয়েক বছর ধরে অনলাইনে পশু বিক্রি করেছেন। বিগত বছরে অনলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে যারা পশু কিনেছিলেন তারাই এবার অগ্রিম পশুগুলো কিনে নিয়েছেন। এখন প্রতিনিয়তই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসছে। কিন্তু খামারে তো গরু নেই।
আরাফাত রুবেল জানান, অনলাইনে পশু কেনার বিষয়টি আস্থার উপর নির্ভর করে। আর সেই আস্থার জায়গাটা তৈরি করতে হয়। গত কয়েক বছরে তিনি সেই আস্থার জায়গাটা তৈরি করেছেন। আর ক্রেতারা চান ঘরে বসেই পশুটা পেতে। এ কারণেই অনলাইন বাজারটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অন্য খামারিরাও যদি স্বচ্ছতার জায়গাটা ঠিক রেখে নিজেদের ব্র্যান্ডিং করতে পারেন, তাহলে অনলাইন বাজারে ন্যায্য দামেই পশু বিক্রি করতে পারবেন।
রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. জুলফিকার মো. আখতার হোসেন বলেন, করোনার সময় থেকে অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাটা জনপ্রিয় হয়েছে। যারা নিজেদের ব্র্যান্ডিং করতে পেরেছেন তাদের আর গতানুগতিক বাজারে গিয়ে পশু বিক্রি করতে হচ্ছে না। কারণ অনলাইন বাজারে পশুর প্রচুর চাহিদা আছে। আর প্রতারণা এড়াতেই প্রতিষ্ঠিত খামারিরা ক্রেতাদের পছন্দের র্শীর্ষে থাকেন। রাজশাহীর অনেক পশু অনলাইন বাজারে বেচাবিক্রি হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তত্ত্বাবধানেও অনলাইনে বেচাবিক্রি হচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাজশাহীতে এবার কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ৬ লাখ ৪৮ হাজার।