ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত ছুরি-বটি কারিগররা

আবুল হাসেম, মা‌টিরাঙ্গা, (খাগড়াছ‌ড়ি)
প্রকাশিত: ১৭:৫৩, ২৬ জুন ২০২৩
ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত ছুরি-বটি কারিগররা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কেউ দিচ্ছেন ধার, কেউবা লাগাচ্ছেন হাতল, অনেকে আবার লোহা পুড়িয়ে বানাচ্ছেন ছুরি, দা, বটি, আবার কেউ বুঝে নিচ্ছেন কাজ। যুগ পাল্টালেও সনাতন পদ্ধতিতে পোড়াচ্ছেন লোহা। এভাবেই পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন খাগড়াছ‌ড়ির মাটিরাঙ্গার কামার কারিগররা।

কোরবানির দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাদের ব্যস্ততা। কোরবানির পশু কাটাকাটিতে প্রয়োজন ধারালো দা, বটি, চাপাতি ও ছুরি। পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি কয়লার চুলায় দগদগে আগুনে গরম পেটানোর টুং টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে সেখানকার বিভিন্ন কামারশালা।

পৌর শহ‌রের বিভিন্ন কামারশালা ঘুরে দেখা যায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে চাহিদা বেড়েছে বিভিন্ন ধারালো লোহার সামগ্রীর। ঈদকে সামনে রেখে বিদ‌্যুৎ ও কয়লার আগুনে রক্তিম আভা ছড়িয়ে লোহায় পড়ছে হাতুড়ির আঘাত। আঘাতে আঘাতে রূপ নিচ্ছে ছুরি, চাকু, চাপাতি, দা ও বটিসহ হরেক রকমের জিনিসপত্র। অক্লান্ত পরিশ্রম ক‌রে শরী‌রের ঘাম ঝরিয়ে ছুরি, চাকু, চাপাতি, দা ও বটিতে রূপ দেওয়া এসব লৌহজাত বস্তুতে শান দিচ্ছেন কেউ, কেউবা আবার অন্য সহকর্মীর কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। তাদের তৈরিকৃত এসব লৌহজাত সামগ্রী বি‌শেষ ক‌রে ছু‌রি আকারভেদে বি‌ক্রি হ‌চ্ছে বি‌ভিন্ন দা‌মে।

Advertisement

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১৫০-২৫০ টাকা, দা ২৫০-৪০০ টাকা, বটি ৩০০-৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৪০০ থেকে ১ হাজার টাকা, চাপাতি ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঈদকে ঘিরে ব্যস্ত মাটিরাঙ্গার কামারিরামাটিরাঙ্গা বাজারের কামার অনিক কর্মকার বলেন, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ক্রেতারা পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি দা, বটি, চাপাতি ও ছুরি ক্রয় করতে আসছেন। কেউ কেউ পুরোনো সরঞ্জামাদি ধারালো করতে নিয়ে আসছেন। ঈদের দু’একদিন আগে কাজের চাপ আরো বাড়তে পারে।

আরেক কর্মকার ব‌লেন, ঈদকে সামনে রেখে মানুষ আমাদের কাছ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে নিচ্ছেন। গত বছ‌রের তুলনায় দাম তেমন বা‌ড়ে‌নি। ছুরি ধরণ বু‌ঝে দামের পার্থক‌্য র‌য়ে‌ছে। আকার ভে‌দে ছু‌রি ১০০-৩০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

প্রিয়তোষ কর্মকার ব‌লেন, মা‌টিরাঙ্গা পৌর সভায় ৬‌টি কামারশালা র‌য়ে‌ছে। অন‌্যান‌্য নিত‌্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সঙ্গে তাল মি‌লি‌য়ে আমরা জিনি‌সের দাম বাড়ায়নি। আমা‌দের কোনো স‌মি‌তি নেই। ঈদকে সামনে রেখে কেউ ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নি‌চ্ছে না।

রতন কর্মকার বলেন, মাটিরাঙ্গায় ৪০ বছর ধরে এ কাজ করে আসছি। পরিবারের এক ছেলে এক মেয়ের মধ্যে ছেলেটি একাউন্টিং এ অনার্স পড়ছে, মেয়েটি ডিগ্রীতে পড়তেছে। পরিবারের ভরণ-পোষণসহ লেখাপড়ার যাবতীয় ব্যয় এ পেশা দিয়েই হচ্ছে।

ছুরি কিনতে আসা এক ক্রেতা বলেন, ঈদ উপলক্ষে ছুরি তৈরি করতে বাড়ি থেকে লোহা নিয়ে এসেছি। তাই শুধু মজুরির টাকা দিলেই হবে।

ছুরি ও দা কিনতে আসা সামছু মিয়া বলেন, আগের ছুরি ও দা পুরা‌নো হয়ে গেছে। যার জন্য নতুন করে কিন‌তে এসেছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
ট্যাগ: খাগড়াছড়ি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!