রোববার উপজেলার আটিয়া ইউপির আটিয়া চালা গ্রামের কুমের পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে আটিয়া শাহনশাহী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের দিন বিদ্যালয়ের গেটে দাঁড়িয়ে কয়েকজন যুবক ছাত্রীদের ইভটিজিং করেছিল। বিদ্যালয়টি নাছিরের বাড়ির পার্শ্ববতী হওয়ায় যুবকদের চলে যেতে বলেন। তারা চলে যেতে না চাইলে একপর্যায়ে যুবকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। এরই রেশ ধরে রোববার দুপুরে নাছির মিয়া ঐ যুবকদের এলাকায় কাজের সন্ধানে গেলে তারা অতর্কিতভাবে হাতুড়ি, ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও লাঠিশোঠা নিয়ে নাছিরের ওপর হামলা চালায়। তারা হাতুড়ি দিয়ে নাছিরের পায়ের নখ থেতলে দেয়। এছাড়া নাছিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। হাতুড়ির আঘাতে নাছিরের ডান হাত ভেঙে গেছে। এ সময় নাছিরের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দেলদুয়ার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
.png)
নাছিরের বাবা কালু মিয়া বলেন, নাছির রাজ মিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করে। রোববার সকালে নাছির ঐ এলাকায় কাজ করতে যায়। দুপুরে লোক মারফত জানতে পারি আটিয়া চালা গ্রামের সাজেদুল ইসলাম, আসিফ, শিপন মিয়া ও হিঙ্গানগর গ্রামের শিহাব মিলে ছেলেকে আগের ঘটনার জের ধরে হাতুড়ি ও ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ওই যুবকেরা ইভটিজিং ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাত হোসেন জানান, বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাটি মীমাংসার জন্য স্থানীয় দুই মেম্বারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হবে।
দেলদুয়ার থানার ওসি নাছির উদ্দিন মৃধা জানান, আহত নাছির মিয়ার বাবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভিকটিমকে দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য এসআই মনোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত রির্পোট পাওয়া সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।