সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার মাসউদ-রুমী সেতু সংলগ্ন রেল ব্রিজের নিচে পাঁচ বন্ধু নদীতে গোসল করতে নামলে নদীর প্রবল স্রোতে তিনজন তলিয়ে যান। কোনো মতে চারজন নিরাপদে তীরে ভিড়লেও নিখোঁজ হন তানভীর।
কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো, জানে আলম জানান, তানভীর নামের ঐ শিক্ষার্থী গড়াই নদীতে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই প্রথমে কুষ্টিয়া ও কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং সন্ধ্যায় খুলনা ডুবুরী দলের ৫ সদস্যের একটি টিম তানভীরকে উদ্ধারে অভিযান চালায়। এরপর তাকে খুঁজে না পাওয়ায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়।
.png)

মঙ্গলবার সকাল ৮টার পর থেকে আবার তানভীরকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে কুষ্টিয়া ও কুমারখালী ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটসহ খুলনা ডুবুরী দলের ৫ সদস্য। তবে গতকালের চেয়ে আজ নদীতে পানির স্রোত বেশি থাকায় উদ্ধার তৎপরতায় চরম বেগ পেতে হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উদ্ধার কাজ চলার পর উদ্ধার কাজ সমাপ্তি করা হয়। বুধবার সকাল থেকে আবার উদ্ধার অভিযানে নামবে ডুবুরী দল।
মঙ্গলবার রাত থেকে নদীতে দুটি নৌকায় পৃথক দুটি দল লাশের সন্ধানে সারারাত ঘটনাস্থল এবং এর আশেপাশে পাহারায় থাকবে জানান কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
ইউএনও বিতান কুমার মন্ডল জানান, রাতেই নিখোঁজ তানভীরের বাবা ও বোন বরগুনা থেকে কুষ্টিয়ায় এসেছেন। তানভীরের সঙ্গে বেড়াতে আসা তার ১২ জন বন্ধু এখনো কুষ্টিয়ায় অবস্থান করছেন।
নিখোঁজ তানভীরের বাড়ি বরগুনা জেলায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসী বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।
সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ শিক্ষার্থী মাইক্রোবাসযোগে মেহেরপুরের মুজিবনগরের উদ্দেশ্যে যান। সেখান থেকে দুপুরে আসেন কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে। সেখানে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ফকির লালন সাঁইয়ের মাজার ঘুরে রওনা হন শিলাইদহ কুঠিবাড়ির উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে কুমারখালীর উপজেলার মাসউদ-রুমী সেতু সংলগ্ন গড়াই নদীতে গোসল করতে নামেন তারা। পাঁচ বন্ধু নদীতে নামলে নদীর প্রবল স্রোতে কোনোমতে ৪ জন নিরাপদে তীরে ভিড়লেও নিখোঁজ হন তানভীর। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।