ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ভুয়া ইউএনও পরিচয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:১০, ১৩ জুন ২০২৩
ভুয়া ইউএনও পরিচয়ে ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা
গ্রেফতার হওয়া তুহিন

নিজেকে ইউএনও পরিচয় দিয়ে পুলিশ সদস্যদের বোকা বানিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেয়া প্রতারক চক্রের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই চক্রের সদস্যরা নিজেকে শুধু ইউএনওই নয়, আরও বিভিন্ন দফতরের সরকারি কর্মকর্তা হিসেবেও পরিচয় দিতেন। এভাবেই তারা প্রতারণা করে আসছিলেন।

তাদেরকে গ্রেফতারের বিষয়টি সোমবার নিশ্চিত করেন বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশের ইনচার্জ মো. সাইহান ওলিউল্লাহ।

এর আগে, এদিন ভোরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় গাছাবাড়ী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

Advertisement

গ্রেফতাররা হলেন- গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার গাছাবাড়ী পশ্চিমপাড়া গ্রামের ৩৫ বছরের তুহিন মিয়া ও একই গ্রামের ১৬ বছরের এক কিশোর। তাদের কাছ থেকে চারটি মুঠোফোনসহ প্রতারণায় ব্যবহার করা সিম উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশ জানায়, গত ৭ জুন সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সদর থানার ডিউটি অফিসারের নম্বর সংগ্রহ করেন তুহিন। এরপরেই ওই নম্বরে ফোন করে নিজেকে সদরের ইউএনও হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। তখন ডিউটি অফিসারকে সদরের নামাজগড় এলাকায় পুলিশ পাঠাতে বলেন তিনি। তাকে বিশ্বাস করে তার নম্বর শহরের উপশহর পুলিশ ফাঁড়িতে দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন ওই ডিউটি অফিসার। তার কথা অনুযায়ী উপশহর ফাঁড়ির পুলিশের টহল টিমের অফিসার তুহিনকে ইউএনও ভেবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

ওই সময় তুহিন সেই পুলিশ অফিসারকে উপশহরের শাহিন হোটেলে গিয়ে মালিকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে দিতে বলেন। ওই পুলিশ কর্মকর্তা সেই হোটেলে গিয়ে তুহিনের সঙ্গে হোটেল মালিকের কথা বলে দেন। এ সময় তুহিন হোটেল মালিক শাহিনের নম্বর নিয়ে নেন। পরে তুহিন শাহীনকে মুঠোফোনে বলেন, উপশহর এলাকার চারটি খাবারের হোটেলের মধ্যে তিনটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারা হোটেল খোলা রাখতে চাইলে তাকে ২০ হাজার টাকা দিতে হবে। এতে হোটেল মালিক শাহীন ভয় পেয়ে তুহিনের মোবাইলে নগদ অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। একই উপায়ে উপশহরের আরেকটি খাবারের হোটেল থেকে আরও ৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন তুহিন।

পরবর্তীতে তুহিনের প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে যায়। তবে ততক্ষণে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান। তবে এ ঘটনায় গত ১১ জুন অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত তুহিনের নাম বেরিয়ে আসে। এরপর থেকেই তুহিনকে ধরতে অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। একপর্যায়ে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাকেসহ আরেকজনকে গ্রেফতার করে জেলা ডিবি পুলিশ।

তুহিন একজন পেশাদার প্রতারক। তিনিসহ তার চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবত দেশের ময়মনসিংহ, শরীয়তপুর, জামালপুর, লক্ষ্মীপুর, টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

জেলা ডিবি পুলিশের ইনচার্জ মো. সাইহান ওলিউল্লাহ বলেন, তুহিনসহ গ্রেফতার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে তুহিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা আগের একটি মামলা রয়েছে। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!