ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

তীব্র তাপদাহে বেড়েছে হাত পাখার কদর 

কাজী মফিকুল ইসলাম, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশিত: ২১:৫৭, ৫ জুন ২০২৩
তীব্র তাপদাহে বেড়েছে হাত পাখার কদর 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সারাদেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তীব্র তাপদাহ চলছে। তীব্র্র তাপদাহ ও অতিরিক্ত গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। 

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোদ যেন আগুনের ফুলকি হয়ে ঝরছে। ঘরে বাইরে কোথাও স্বস্তি নেই। একদিকে তীব্র তাপদাহ আর ভ্যাপসা গরমে সাধারণ মানুষ একপ্রকার অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। 

গরম থেকে স্বস্তি পেতে অনেকেই হাত পাখা কেনায় পাখার কদর বৃদ্ধি পেয়েছে । ফলে হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বাহারি রকমের হাত পাখা বিক্রি বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে। 

Advertisement

ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা তালের পাতার তৈরি পাখা, সুতায় বুনানো, কাপড়ের তৈরি, আর বাঁশ বেতের তৈরি ও প্লাস্টিকের পাখা বিক্রি করছেন। তীব্র গরম থাকায় হাত পাখা বিক্রি অন্য সময়ের তুলনায় বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

এদিকে পৌর শহরের সড়ক বাজার, রেলওয়ে স্টেশন, খড়মপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেখা যায়, নানা প্রকারের হাত পাখা নিয়ে বসে আছেন ব্যবসায়ীরা। তারা ট্রেনে, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে হাত পাখা বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এক একটি হাত পাখা ৩০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  সুতায় বুনানো, কাপড়ের তৈরি, তালের পাতার পাখা আর বাঁশ বেতের হাত পাখা সব চেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। 

পৌর শহরের খড়মপুর মাজার এলাকায় পাখা বিক্রেতা মো. রিফাত মিয়া বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর গরম খুবই বেশি পড়েছে। তাই হাতপাখার চাহিদা বেড়েছে। 

স্থানীয়দের পাশাপাশি মাজারে আগত ভক্তরা গরম থেকে স্বস্তি পেতে পাখা ক্রয় করছেন। 

ভ্রাম্যমাণ পাখা বিক্রেতা মো. হারুন মিয়া জানান, তার বাড়ি ভৈরব এলাকায়। স্বামী স্ত্রী দুজন মিলে তাল পাতার পাখা তৈরি করছেন। তিনি প্রতিদিন কর্ণফুলি ট্রেনে ভৈরব থেকে উঠে পাখা বিক্রি করতে করতে আখাউড়ায় আসেন। কোনো কোনো সময় ইমামবাড়ি বা কসবা স্টেশন পর্যন্ত যান। এরপর অন্য একটি ট্রেনে উঠে বিক্রি করতে করতে ভৈরব চলে আসেন। 

তিনি আরো জানান, তীব্র গরম থাকায় তাল পাতার পাখার চাহিদা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০টি পাখা বিক্রি হয় বলে জানান। খরচ বাদে দৈনিক ৪শ থেকে ৫শ টাকা তার আয় হয়। 

খড়মপুর এলাকায় মোবারক হোসেন বলেন, প্রচণ্ড গরমে হাত পাখার চাহিদা কয়েকগুন বেড়েছে। বিশেষ করে মাজারে আসা ভক্ত আশেকান, খুচরা ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন  শ্রেণির লোকজনরা হাত পাখা বেশি ক্রয় করছেন। 

কলেজ শিক্ষার্থী মো. বাবু মিয়া বলেন, তীব্র গরমে সামান্য স্বস্তি পেতে একটি হাতপাখা কিনেছি। 

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. আব্বাস মিয়া বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে চলছে তীব্র তাপদাহ। দাবদাহ থেকে একটু স্বস্তি পেতে একটি হাত পাখা ৫০ টাকা দিয়ে কিনেছি। 

গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, রঙিন পাখা সবসময় পাওয়া যায় না। খড়মপুর এলাকা থেকে এক জোড়া পাখা ২শ টাকা দিয়ে কিনেছি। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!