শুক্রবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে শফিকুল ইসলামের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃত শফিকুল ইসলাম গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার বজরুক জামালপুর গ্রামের মুন্টু আকন্দের ছেলে।
জানা যায়, উপজেলার কাদাই গ্রামের আলতাব হোসেনের মেয়ে শ্যামলী খাতুন ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সেখানে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে তিন বছর আগে শফিকুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। স্বামীর ওপর অভিমান করে ১৫ দিন আগে কাদাই গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে আসেন শ্যামলী। বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে শ্বশুরবাড়িতে আসেন শফিকুল ইসলাম। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনেক চেষ্টা করেও স্ত্রীর সাক্ষাৎ পাননি তিনি।
.png)
একপর্যায়ে শ্বশুড়বাড়ির লোকজন শফিকুলকে হালকা আপ্যায়ন করান। এ সময় পানি পানি করে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। তখন স্বামীকে প্রথমে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন শ্যামলী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রাত ৯টার দিকে মৃত্যু হয় শফিকুল ইসলামের। মৃত্যুর পর শ্যামলী খাতুন ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।
শফিকুল ইসলামের ভাই রফিকুল ইসলাম বলেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কাছে টাকা পান শফিকুল। সেই পাওনা টাকা চাইতে গেলে তারা আমার ভাইকে পানির সঙ্গে কৌশলে বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে পান করিয়েছেন। এতে তিনি অসুস্থ হলে চিকিৎসার নামে হাসপাতালের গেটে ফেলে পালিয়েছেন তারা।
ধুনট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত শ্যামলী খাতুন তার স্বামীর সঙ্গে ছিল। কিন্ত মৃত্যুর পর মরদেহ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যান তিনি। তবে ঘটনার পর পলাতক রয়েছে শ্যামলী ও তার পরিবারের লোকজন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।