কয়েকটি গ্রামে আমের রংয়ের পরিবর্তে সফেদার রং এবং আকারেও ছোট হওয়ায় প্রথমে দেখলেই মনে হবে সফেদা। কয়েক বছর ওইসব গাছে আমের ভালো ফলন হলেও এ বছর এমন সফেদার রূপ ধারণ করেছে। যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা কৌতূহল দেখা দিয়েছে ।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার পশ্চিখাদা, সিংবাড়ি, আমড়াগাছিয়া ও রাজৈর গ্রামের অনেক বাড়ির গাছে আমের পরিবর্তে থোকায় থোকায় ঝুলছে সফেদা সাদৃশ্য ফল। গ্রামের ওইসব বাড়ির আম গাছগুলোতে চোখ পড়তেই মনে হবে থোকায় থোকায় সফেদা ঝুলছে। কিন্তু আম গাছে সফেদা ফল কিভাবে হবে? বিষয়টি নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
.png)
তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এটা এক ধরনের রোগ। যা প্রথমে দেখা দেয় উগান্ডায়। এটি এখন বাংলাদেশেও দেখা দিয়েছে। তবে এই আম খেলে স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। আলো বাতাস কম থাকা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশের কারণে এই রোগ দেখা দিয়েছে।

শরণখোলা উপজেলার পশ্চিম খাদা গ্রামের আম বাগান মালিক শাহজাহান আকন বলেন, আমার ৭৫ বছর বয়স। জীবনে এর আগে কখনো আম গাছে সফেদার মতো ফল হতে দেখিনি। কোনো ভাবেই বোঝার উপায় নেই আম নাকি সফেদা। সফেদার মতো দেখতে এসব আম পোকায় ভরা।
আমড়াগাছিয়া গ্রামের গাছ মালিক মানবী রানী বলেন, এই গাছের আম আগে ঠিকমত সবুজ ছিল কিন্তু এখন রং পাল্টে গেছে। সফেদার মতো হয়ে গেছে। দুই-চার গ্রামে এই কলমের আম গাছে এ ধরনের আম হয়েছে।
শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, এটা এক ধরনের দাদ, যা ছত্রাক জড়িত রোগ। ছায়াযুক্ত স্থানে গাছ থাকলে এমন ছত্রাক দেখা দিতে পারে। এই আমের গায়ে ছত্রাকের আবরণ পড়েছে, তাই দেখতে সফেদা ফলের মতো হয়েছে। এতে ভয়ের কিছু নেই। ছত্রাকের কারণে পোকা হলেও ওই আম খাওয়া যাবে।
তিনি আরো বলেন, এই ছত্রাক জড়িত আম প্রথমে আফ্রিকা মহাদেশের উগান্ডায় দেখা দেয়। এটা এখন বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলেও দেখা যাচ্ছে।