মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুড়িগ্রাম জেলার বুরুঙ্গামারী থানার শিলগুড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ দলডাঙ্গা গ্রামের সমেদ আলীর ছেলে শাহজালাল ও খয়বর হোসেন এবং তাদের সহযোগী আশ্রাফুল।
.png)
আদালত সূত্রে জানা যায়, শাহজালাল ও আশ্রাফুল রূপগঞ্জের টেকপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তাদের পরিকল্পনা ছিল- বাড়িওয়ালা আনোয়ার হোসেনের শিশু মেয়ে উম্মে তাবাসসুম জুঁইকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করবেন। পরিকল্পনা মতো ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর দুপুরে জুঁইকে মুখ চেপে ধরে অপহরণ করেন তারা। এরপর তাদের কক্ষে নিয়ে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলেন তারা। এ সময় জুঁই চিৎকারের চেষ্টা করলে মুখে পলিথিন দিয়ে চাপ দিয়ে ধরেন অপহরণকারীরা। পরে জুঁই অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
জুঁইয়ের জ্ঞান ফেরার পর তার শরীরে অজ্ঞান করার ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপরই জুঁইয়ের মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর জুঁইয়ের পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন শাহজালাল ও আশ্রাফুল। মুক্তিপণের টাকা নিয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যেতে বলেন। অপহরণের ঘটনা পুলিশকে জানালে জুঁইকে মেরে ফেলবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। পরে অপহরণকারীদের সঙ্গে তাদের পাঁচ লাখ টাকায় রফাদফা হয়। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় রাতেই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বস্তাবন্দি করে নিজ বাড়ির পেছনে জুঁইয়ের লাশ ফেলে রেখে যায় আসামিরা। এ ঘটনায় নিহত জুঁইয়ের বাবা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রকিব জানান, ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেছেন। বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ এ রায়ে সন্তুষ্ট।