স্বজনরা জানান, রোববার ভোরে ঘরে আগুন লাগলে চিৎকার করে আশপাশে থাকা স্বজনদের ডাকতে শুরু করেন নূর নাহার বেগম। তার চিৎকারে ভাই, বোন ও স্বজনরা এগিয়ে যান। পাশের পুকুর থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন তারা। তখনই দুই সন্তানকে বাঁচাতে আগুনে ঝাঁপ দেন নূর নাহার। দুই সন্তানের সঙ্গে আগুনে পোড়েন নিজেও।
একই ঘটনায় আহত হন নূর নাহারের ভাইয়ের ছেলে ইমাম উদ্দিন। নূর নাহারের পাশেই ইমাম উদ্দিনের ঘর। ইমাম উদ্দিন বলেন, ভোর তখন সাড়ে ৪টা। ফুফুর চিৎকার শুনে আমার ঘুম ভেঙে যায়। ঘর থেকে বেরিয়েই দেখি আগুন লেগেছে। বাবা-মা’সহ সবাইকে ডাকতে শুরু করি। এর মধ্যেই ফুফু তার সন্তানদের বাঁচাতে আগুন লাগা ঘরে ঢুকে যান।
.png)
জানা যায়, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার পূর্ব শহীদনগর এলাকায় ছয় মেয়ের বসবাসের জন্য ছয়টি কক্ষ তৈরি করে দেন নূর নাহারের বাবা দেলোয়ার হোসেন। বাঁশের বেড়া ও টিনের তৈরি কক্ষগুলোতে বসবাস করে আসছিলেন ছয় বোন ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। বোনদের মধ্যে নূর নাহার সবার ছোট। ছয়টির একটি কক্ষে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে থাকতেন তিনি।
রোববার ভোর পাঁচটার দিকে সেই কক্ষটিতেই আগুন লাগে। খবর পেয়ে বায়েজিদ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় দুই সন্তানসহ নূর নাহারকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে এক বছর বয়সী শিশু মারুফ মারা যায়। এরপর দুপুরে নূর নাহার বেগম ও তিন বছরের ফারিয়ারও মৃত্যু হয়।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন পালিত বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা ও দুই শিশু মারা যায়। আগুনে তাদের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায়।
এদিকে, আগুনে মা ও দুই বোনের মৃত্যু হলেও খালার বাসায় থাকায় বেঁচে যায় নূর নাহারের সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. মাসুদ। ঘটনার সময় বাসায় ছিলেন না স্বামী মো. মানিক।
আগুন নেভানোর পর ঘরটিতে দুটি সিলিন্ডার অক্ষত অবস্থায় পায় ফায়ার সার্ভিস। ফলে মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা তাদের।