আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, ২১ বছর আগে এই ঘুড্ডি মেলার আয়োজন করেন স্থানীয় প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাট্যকার ও নির্দেশক, জাতীয় লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বাবু রঞ্জন সাহা। তিনি বেঁচে না থাকলেও ঘুড্ডি মেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে মেলা উদযাপন কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবছর ২৫ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী এই মেলা হয়ে থাকে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ঘুড্ডি মেলার উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম।
.png)
সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিটকার পোদ্দার বাড়ি মাঠে জড় হন শতশত ঘুড়িপ্রেমী শিশু, কিশোরসহ নানা বয়সের মানুষ। নানা আকৃতির ঘুড়ির রয়েছে বাহারি সব নাম। আকাশে উড়ছে কইরা, চিলা, পতেঙ্গা, প্রজাপতি, ডোল, নৌকাসহ নানা নামের ঘুড়ি। প্রতিবছর এই দিনের অপেক্ষায় থাকেন এখানকার মানুষ। এই উৎসবকে ঘিরে সেখানে বসেছে গ্রামীণ মেলা। মেলা উপলক্ষে খাবার দোকান, খেলনা, বেলুন শুটার, প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানের পাশাপাশি রয়েছে ঘুড়ি বিক্রির দোকান। মেলায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।

মেলায় পরিবার পরিজন নিয়ে এসেছেন বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সানোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ঝিটকার ঐতিহাসিক পোদ্দার বাড়ির মাঠে ঘুড়ি মেলা শুরু হয়েছে। এখানে এসে সেই ছোট বেলার স্মৃতি মনে পড়ে গেল। এমন সময়ে বিকেলে কত রকমের ঘুড়ি আকাশে উড়িয়েছি। আর বর্তমান প্রজন্ম এগুলো থেকে বঞ্চিত। আমার সন্তানও ঘুড়ি উড়ানো আগে দেখেনি। তারাও আজ দেখলো কীভাবে আকাশে ঘুড়ি ওড়ে।
১২ বছরের রাজিব হোসেন রাব্বি তার তিন বন্ধুকে নিয়ে মেলায় এসেছে। তার সঙ্গে এনেছে প্রায় চার ফুটের মতো একটি চিলা ঘুড়ি। সে জানায়, মেলা উপলক্ষে তার বড় ভাই এই ঘুড়ি ও সুতা কিনে দিয়েছেন। সেটা উড়াতেই ঝিটকা এলাকা থেকে পোদ্দার বাড়ি মাঠে এসেছে। শুধু রাব্বি নয় এমন প্রায় নানা বয়সী ঘুড়িয়ালরা এ মেলায় এসেছেন।

মেলা উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক সৈয়দ রইস উদ্দিন বলেন, এ ঘুড্ডি মেলার প্রচলন প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাট্যকার এবং জাতীয় লোকসাহিত্য সংগ্রহ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বাবু রঞ্জন সাহা। দুই দশকের এই আয়োজন এখন স্থানীয় সংস্কৃতির অংশ হিসেবে পরিণত হয়েছে। আগামীতে এর ব্যাপকতা বৃদ্ধির জন্য কিছু তরুণ সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিয়ে আমরা একযোগে কাজ করছি।
মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম জানান, ঘুড়ি উড়ানো, মেলা এগুলো আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য। আমাদের সন্তানরা দেশীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য যত ধারণ করবে ততই তারা ভালো থাকবে। এমন আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের সন্তানরা মাদক, সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকবে। দেশটাকে ভালো আর সুন্দর রাখতে হলে আমাদের ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। আর এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
তিনদিন ব্যাপী এই মেলায় ঘুড়ি উড়ানোর পাশাপাশি নজরুল সংগীত, নৃত্য প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, লোকযাত্রা, নাটকসহ কাবাডি খেলার আয়োজন করা হয়েছে।