কেউ বলছেন গৃহবধূ মারা গেছেন, আবার কেউ বলছে গৃহবধূ মারা যায়নি। এতেই ঘটেছে বিপত্তি। তাই পরিবারের সদস্যরা গৃহবধূ মারা যাওয়ার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও লাশ দাহ না করে ওঝা ও কবিরাজ দিয়ে ঝাড়ফুঁক দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় বুধবার সকাল ১০টার দিকে লাশ নিয়ে কুলাউড়া উপজেলার ব্রাক্ষণবাজারে মিশনারীতে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিহতের ননদ শিবলী রাণী সিনহা বলেন, মঙ্গলবার আমাদের বাড়িতে ৪জন ওঝা এসে ভাবিকে ঝাড়ফুঁক দিয়ে গেছেন। রাতে ভাবির শরীর শক্ত হয়ে গেলেও বুধবার সকাল থেকে তার শরীর নরম হয়ে গেছে। তার হাত-পা এখন নাড়ানো সম্ভব হচ্ছে। তাই দাহ না করে ভাবিকে নিয়ে কুলাউড়া মিশনে যাচ্ছি।
এদিকে ঝর্ণার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য আসা একই গ্রামের রাজীব সিংহ, নিশি সিংহ, বাবুল সিংহ, প্রদীপ সিংহ, হুকনা সিংহ জানান, গৃহবধূর শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের জন্য গ্রামবাসী প্রস্তুতি সম্পন্ন করলে, হঠাৎ গৃহবধূর শরীর শক্ত থেকে নরম হয়ে যাওয়ায় কারণে দাহ এর কাজ না করে তার পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য কুলাউড়া নিয়ে গেছেন।
.png)
মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউপির হিরামতি গ্রামের বাবুল সিংহের স্ত্রী ঝর্ণা সিংহ নিজ বাড়ির গোয়াল ঘরের পেছনে কচু কাটতে যান। এ সময় তার ডান হাতে বিষধর সাপ কামড় দেয়। পরে পরিবারের লোকজনকে জানালে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়েও তাকে বাঁচাতে পারেননি। পরে হাসপাতাল থেকে ঝর্ণাকে মৃত ঘোষণা দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলেও পরিবারের সদস্যরা ঝর্ণার শরীর গরম থাকার কারণে কবিরাজের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক দেন। পরে কবিরাজও তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের লোকজনের অভিযোগ, ঝর্ণার হাত যতক্ষণ বাধা ছিল সে সুস্থ ছিল। ইনজেকশন পুশ করার জন্য তার হাতের বাঁধন খুলে দেয়ার পরপরই সে অজ্ঞান হয়ে যায়। আর জ্ঞান ফিরেনি।
মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. ফজলুল জামান জানান, ইনজেকশন দেয়ার আগেই ঐ নারীর শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়েছিল তাই ইনজেকশন দিয়েও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।