মঙ্গলবার এমন দৃশ্যের দেখা মেলে বগুড়া শহরে। ভরদুপুরে আচমকাই চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। শুরু হয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের ছোটাছুটি। মোটরসাইকেল, ট্রাক ও বাস হেডলাইট জ্বেলে চলাচল শুরু করে সড়কে। পথচারীরা নিরাপদ আশ্রয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। ওই সময় দমকা হাওয়ায় ফুটপাতের দোকানগুলোর প্লাস্টিকের ছাউনি যেন উঁড়ে যেতে চাচ্ছিল খোলা আকাশে। এর মিনিট দশেক পরেই শুরু হয় ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। সঙ্গে বাতাস তো আছেই। সবমিলে ১৫ মিনিটের মতো ছিল এমন দৃশ্য। ওই সময় থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি এখন (সন্ধ্যা ৬টা) পর্যন্ত থামেনি।
আবহাওয়া অফিস বলছে, বগুড়ার ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যাওয়ায় দিনের বেলায় অন্ধকার নেমে আসে। এ যাত্রায় এ জেলায় ঝড় না হলেও আগামী তিনদিনের মধ্যে বগুড়াতে কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
.png)
বগুড়ার আকাশে যখন অন্ধকার নেমে আছে তখন শহরের ফুলতলা ও খান্দার বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে ছোটাছুটি করেন পথচারীরা। তারা সবাই ছিলেন আতঙ্কে।
ওই সময় ফুলতলা বাজারে কথা হয় হাকিম নামে এক ব্যবসায়ী সঙ্গে। তার দোকানে দই, কোমলপানীয়সহ নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা হয়।
দোকান বন্ধ করতে করতে হাকিম বলেন, হঠাৎ করেই অন্ধকার নেমে আসায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সেই সঙ্গে ঝড়ো হাওয়ায় ধুলো উড়ছে। এ কারণে দোকান বন্ধ করছেন তারা।
ফুলতলা বাজারে আসা বাবু প্রামাণিক বলেন, মোটরসাইকেল নিয়ে বাজারে এসেছি। কিন্তু এমন ঝড়ের মধ্যে পড়তে হবে তা আগে থেকে বুঝতে পারিনি। দিনদুপুরেও হেডলাইটের আলোয় পথ চলতে হচ্ছে। চারপাশটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। নিরাপদে বাড়ি যেতে পারলেই বাঁচি।
জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদফতরের বগুড়া কার্যালয়ের সিনিয়র পর্যবেক্ষক আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বড় আকারের এক কালবৈশাখী ঝড় আমাদের বগুড়ার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। সেই কারণে মেঘের ভার্টিক্যাল হাইট বেড়ে গিয়ে আধার নেমে এসেছিল। কালবৈশাখী ঝড় বা কালো মেঘটি পূর্ব-দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বগুড়া অতিক্রম করার সময় মেঘের উলম্ব দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় আজ দিনে আঁধার নেমে আসে।
তিনি আরও বলেন, কালবৈশাখী ঝড় বা কালো মেঘটি আজ পৌনে ৩টা থেকে পরবর্তী এক ঘণ্টায় বগুড়া অতিক্রম করে। এ সময় বাতাস ও বৃষ্টিপাত শুরু হয়। জেলায় ১৪ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে।