বুধবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) শেখ মো. আব্দুল্লাহ বিন কালাম।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের একটি দল। বুধবার তার ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
.png)
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, গ্রেফতার এড়াতে গত ২ মাস দেশের বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপনে ছিলেন রুমা। নিকটাত্মীয় ছাড়াও তিনি পরিচিতজনদের বাসাতেও অবস্থান করেন। তবে রুমা জানান, ঢাকার খিলক্ষেতে বোনের বাড়িতে পালিয়ে ছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ মার্চ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয় কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর (বর্তমান রউফনগর) গ্রামের ইয়ামিন মৃধা রাজু (৪০) ও তার ছেলে রাজন মৃধাকে (১৫)। নদী ভাঙনে ভিটামাটি হারিয়ে প্রায় ১২ বছর তারা মাঝকান্দি গ্রামে মো. সালাম শেখের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছেন।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া নিজের ৮ বছরের সৎ মেয়ে ও বোনকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বাবা ইয়ামিন মৃধা ও ছেলে রাজন মৃধাকে পাশবিক নির্যাতন করার পর তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এরপর ছেলে রাজনের বিরুদ্ধে সৎ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয় থানায়।
তবে ঘটনার ৭ দিন পরে বাবা ও ছেলেকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে অমানবিকভাবে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হলে ঘটনার আসল রহস্য বেরিয়ে আসে। এরপর বাবা-ছেলেকে নির্যাতনের ঘটনায় ইয়ামিন মৃধা থানায় আরো একটি মামলা করেন। এ মামলায় ৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, আড়ুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইসরাত জাহান লিপি তার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ইভাকে (৮) দত্তক নিতে চেয়েছিলেন। তার এ উদ্দেশ্য সফল করতে মেয়েটির সৎ বাবা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের নির্দয়ভাবে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয় এবং ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে দিয়ে ধর্ষণ মামলা করানো হয়।
এ ঘটনার পরে ছেলেটির বাবা ইয়ামিন মৃধা বলেন, অভিযোগ শুধু আমার ছেলের বিরুদ্ধেই নয়, প্রথমে তারা আমার বিরুদ্ধেও মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিল।