কৃষকরা জানান, পাকা ধানে মই দেয়ার অবস্থা তৈরি করেছে অনাহুত বৃষ্টি। এবার ধানের ফলন ভালো হলেও আবহাওয়া পরিস্থিতি ও শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে পারেনি কৃষক। যদিও কৃষি বিভাগের দাবি ৬০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। যা কৃষকরা বাড়িতে নিতে পেরেছেন।
জানা গেছে, এবার জেলায় ১ লাখ ৬০ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল। এটা খুলনা বিভাগের ভেতর সবচেয়ে বেশি বোরো ধান চাষের জেলা। ঈদের আগে থেকে প্রচণ্ড খরতাপে কিছু কিছু এলাকায় ধান কাটা শুরু হলেও কৃষকরা ধান বাড়িতে না এনে জমিতেই রেখে দেন। ঈদ চলে যাওয়ার পর পর হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে কৃষকদের ক্ষেতে কেটে রাখা পাকা ধান এখন পানিতে ভাসছে। অনেকের দাঁড়িয়ে থাকা পাকা ধানগাছ বাতাসে হেলে পড়েছে। ফলে কাটা ও গুছিয়ে ঘরে তোলাসহ ধান শুকানো নিয়ে কৃষকরা পড়েছেন বিপাকে। বৃষ্টির একটু বিরতিতে নতুন করে কিছু কৃষক ফসল গোছাতে ব্যস্ত হলেও অনেকের পাকা ধানগাছ শ্রমিক সংকটে মাঠেই দাঁড়িয়ে রয়েছে। চলতি সপ্তাহে চারদফায় ঝড়-বৃষ্টি হয়।
.png)
গত বুধবার দুপুরে প্রায় দুই ঘণ্টা বৃষ্টি হয়েছে যশোরের কিছু এলাকায়। এতে অনেক ক্ষেতেই পানি জমে গেছে।
শার্শার বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রখর রোদে রোজা রেখে ধান কাটতে পারিনি। ওই সময় ধান তেমন পাকেওনি। ঈদের দুদিন পরে ধান কাটা শুরু করি। ধান ঘরে তোলার আগেই বৃষ্টিতে সব শেষ। এখন কাটা ধান জমিতেই পানিতে ভাসছে।
আমতলা গাতিপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, তিন বিঘা জমিতে এবার ধান করেছি। এর মধ্যে এক বিঘা জমির ধান বাড়িতে আনতে পেরেছি। বাকি দুই বিঘার ধান কেটে জমিতে ফেলে রাখায় বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। এতে আমার বিরাট ক্ষতি হয়ে গেছে। আমার চারটা গরু আছে। ধান বাড়িতে আনতে না পারলে বিচালির অভাবে আমার গরুগুলো না খেয়ে মারা যাবে।
তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা শ্রমিকরা কৃষকের ধান কেটে দিলেও এবার তাদের সংখ্যা কম। ফলে অনেক কৃষক শ্রমিক সংগ্রহ করতে পারেনি। শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি খারাপ আবহাওয়া কৃষকদের ধান কাটা নিয়ে বিপাকে ফেলেছে।
মণিরামপুর উপজেলার পলাশী গ্রামের শামসুর রহমান বলেন, ৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করি। এরমধ্যে দুই বিঘা কেটে মাটিতে শুকানোর জন্য ফেলে রাখা হয়। কিন্তু এখন তা পানিতে ভাসছে। আর ঝড়ের কারণে অন্য জমির ধান মাটিতে একাকার হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আর দুই দিন সময় পেলে নির্বিঘ্নে পুরো ধান ঘরে তুলতে পারতাম। কিন্তু শেষ পর্যায়ে ঝড়-বৃষ্টি আমাদের শেষ করে দিয়েছে।
বাঘারপাড়া উপজেলার সিলুমপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম মন্ডল বলেন, বৃষ্টিতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাটা ধান পানির নিচে। আর না কাটা ধান পানির ওপরে হেলে পড়েছে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, যশোরে ৬০ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। ফলন এবার ভালো। হাইব্রিড ধান প্রতি একরে ৫ দশমিক ২৫ এবং উচ্চ ফলনশীল (উফশী) প্রতি একরে ৪ দশমিক ৩৫ টন ফলন হচ্ছে। শ্রমিক সংকট আছে। তারপরও আর কয়েক দিনের ভেতর কৃষক সব ধান কাটতে পারবে। বৃষ্টিপাতে যশোরের কিছু এলাকায় কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। তবে সব এলাকায় নয়।